অ্যাডিলেডে আজ দিনের পুরোটাই ছিল পাকিস্তানের। টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে রীতিমতো গতির ঝড় তোলেন পাকিস্তানি পেসাররা। সে ঝড়ে দিশেহারা হয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটাই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন ইনিংস।
এ রান তাড়া করতে পাকিস্তানের যে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না, সেটা ধারণা করা গিয়েছিল আগেই। কিন্তু দলটার নাম যখন পাকিস্তান, যেকোনো কিছুই হতে পারে বলে সে ধারণায় খুব বেশি ‘জোর’ দেওয়াও যাচ্ছিল না! তবে আজ আর কোনো অঘটনের জন্ম দেয়নি মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।
ম্যাচটাকে একপেশে বানিয়ে পাকিস্তান ম্যাচটা জিতে নিয়েছে ৯ উইকেটে, সেটাও আবার ইনিংসের ১৪১ বল হাতে রেখে। একইসঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতাও ফিরিয়েছেন রিজওয়ান-বাবর আজমরা। অ্যাডিলেডে ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে হারাল পাকিস্তান।
রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বোলারদের তেমন সুযোগই দেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার সায়েম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ শফিক। শুরুতে অবশ্য দুজন দেখে শুনেই সামলাতে থাকেন মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্স-জশ হ্যাজলউডদের। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে কোনো উইকেট না দিয়ে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে ৪৭ রান যোগ করেন তাঁরা।
পাওয়ার প্লে-শেষ হতেই আক্রমণাত্মক হতে থাকেন আইয়ুব। কামিন্সের পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা মারেন পাকিস্তানি ওপেনার। স্টার্কের পরের ওভারে মারেন আরও ২টি চার ও ১টি ছক্কা। এরপর যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, চলতে থাকে আইয়ুব শো। এর মধ্যে ইনিংসের ১৫তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে কামিন্সের ওভারে নতুন জীবন পান পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ওই ওভারেই ফিফটির (৫২ বলে) দেখা পেয়ে যান তিনি।
অ্যারন হার্ডির পরের ওভারে চার-ছক্কা মেরে পাকিস্তানের দলীয় রান তিন অঙ্কে (১০০) নিয়ে যান আইয়ুব। এক প্রান্তে আইয়ুব ঝড় চললেও অপর প্রান্তে কিছুটা দেখে শুনে খেলছিলেন শফিক। তবে পাকিস্তানের রান ১০০ পেরোনোর পর খোলস ছেড়ে বের হন শফিকও।
পাকিস্তানের জয় থেকে ২৭ রান দূরে থাকতে জাম্পার বলে হ্যাজলউডের হাতে ক্যাচ দেন আইয়ুব। এতে থেমে যায় আইয়ুব-শফিকের ১৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। আইয়ুব যখন ড্রেসিংরুমের ফিরছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৭১ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৮২ রান।
আইয়ুব আউট হওয়ার পর আর কোনো উইকেট দেয়নি পাকিস্তান। বাবর আজমকে সঙ্গে নিয়ে ২৬.৩ ওভারে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন শফিক। বাবর ১৫ রানে (২০ বল) ও শফিক ৬৯ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন।