পাকিস্তান যেন দেখিয়ে দিতে চেয়েছিল, ৭ ওভারেও অলআউট হওয়া যায়

বৃষ্টির কারণে ম্যাচই ৭ ওভারে নেমে আসায় পাকিস্তানের পক্ষে শুধু রুয়ান্ডার রেকর্ডটাই ভাঙা সম্ভব ছিল। কোন রেকর্ড? টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বলে অলআউট হওয়া! গত বছরের অক্টোবরে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৬.১ ওভারে ২৪ রান করে অলআউট হয়েছিল রুয়ান্ডা। রেকর্ডে দুই নম্বরে যারা ছিল, তাদের রেকর্ড অবশ্য পাকিস্তানের ‘ধরাছোঁয়া’র বাইরে ছিল – গত মে-তে জাপানের বিপক্ষে মঙ্গোলিয়া ১২ রানে অলআউট হতে যে লেগে গিয়েছিল ৮.২ ওভারে! ৭ ওভারের ম্যাচে পাকিস্তান আর সে রেকর্ড ছোঁবে কী করে!

পাকিস্তান অবিশ্বাস্য কান্ডই প্রায় ঘটিয়ে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো রেকর্ড-টেকর্ড আর হয়নি। রুয়ান্ডার রেকর্ড অক্ষতই থেকেছে, পাকিস্তান অলআউটও হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৯৪ রানের লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত ৩০ রানে হারের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে এটি যে, আর একটা উইকেট হলেই ৭ ওভারের ইনিংসে অলআউট হয়ে যেত পাকিস্তান!

দুই ওভার পাওয়ার প্লে, ৭ ওভারের ইনিংস – ‘টি৭’ হয়ে যাওয়া ম্যাচে বারেবারে ডানহাতি থেকে বাঁহাতি বনে যাওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১৯ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ৪১ আর শেষদিকে মার্কাস স্টইনিসের ৭ বলে ২১ রানে অস্ট্রেলিয়া পেল ৯৩ রান। ৭  ওভারের ম্যাচে লক্ষ্য ৯৪ – একেবারে অসম্ভব তো নয়। কিন্তু পাকিস্তান ছুটল আরেক অসম্ভবের পেছনে!

ভারতের সঙ্গে সিরিজের জন্য নিয়মিত একাদশের প্রায় কেউই নেই। অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলার যেমন স্পেনসার জনসন, জাভিয়ের বার্টলেট আর ন্যাথান অ্যালিস! তাঁদের সামনেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং।

জনসনের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলেই শাহিবজাদা ফারহান (৪ বলে ৮) চার মারলেন, এরপর চতুর্থ বলে আউট হয়ে গেলেন। বার্টলেটের করা পরের ওভারের প্রথম বলে ফুল লেংথ ডেলিভারিকে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারতে গেলেন রিজওয়ান (০), কিন্তু বল তাঁর ব্যাট থেকে হেলমেট ছুঁয়ে ক্যাচ গেল পয়েন্টে। উসমান খান (৪) একটা চার মেরে ওই ওভারেরই শেষ বলে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।

এরপর বাবর আজমের পালা। ৭ ওভারের ম্যাচ রিজওয়ান-বাবরের মতো গুছিয়ে নিয়ে শুরু করতে চাওয়া ব্যাটসম্যানের জন্য বড় অস্বস্তির বটে, বাবর (৩) অস্বস্তির শেষ টানলেন তৃতীয় ওভারে অ্যালিসের প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে। ১৩ বলের মধ্যে ১৬ রানে ৪ উইকেট নেই।

সেটা ১৬/৫ হয়ে গেল এক বল পরই, ইরফান খানও যখন বাবরের মতোই ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। তখনই রেকর্ডবই নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেল, ৭ ওভারের ম্যাচেও কি অলআউট হয়ে যাবে পাকিস্তান?

পাকিস্তান আবার রুয়ান্ডার রেকর্ডেও ভাগ বসায় কি না, সে শঙ্কা আরও জোরাল হলো যখন যতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে সালমান আগাও আউট হয়ে গেলেন। তবে এরপর অস্ট্রেলিয়াই কিছুটা ক্ষান্তি দিল, অথবা হঠাৎ করে হাসিবুল্লাহ খান (৮ বলে ১২) আর আব্বাস আফ্রিদির (১০ বলে ২০) মনে পড়ে গেল যে, ‘আরে, আমরাও তো কিছু ব্যাটিং পারি!’  

হাসিবুল্লাহ ষষ্ঠ ওভারে আউট হলেও ততক্ষণে পাকিস্তানের অলআউট হওয়ার শঙ্কা অনেকটা কমে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ১ উইকেটের আফসোস বাড়ল জাম্পার করা ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে শাহিন আফ্রিদি আর নাসিম শাহ্‌ বোল্ড হয়ে যাওয়ায়।

আর একটা উইকেট হলেই যে পাকিস্তান দেখিয়ে দিত, ৭ ওভারের ম্যাচেও অলআউট হওয়া যায়!