৮ ছেড়ে ৪-এ বাংলাদেশ

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতবে – ক্রিকেটের অনিশ্চয়তাকে এক পাশে রেখেই সেটা ম্যাচের আগে অনুমিত ছিল। নেপাল, আফগানিস্তান আর শ্রীলঙ্কার গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠবে, সেই আশাও বাস্তবতার নিরিখে দুরূহ মোটেও ছিল না।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ দুটি বক্সেই ‘টিক’ দিয়েছে। দুবাইয়ে আজ নেপালকে সহজেই হারিয়েছে, তাতে টানা দ্বিতীয় জয়ে সেমিফাইনালে ওঠাও নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। নেপাল অনেক কষ্টেসৃষ্টে ১৪১ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে, ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ৫৯ রানের পর অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের অপরাজিত ৫২ রানে বাংলাদেশ হেসেখেলেই ৫ উইকেটে জিতে গেছে।

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি বাকি আছে, আগামী মঙ্গলবার সে ম্যাচে জয়ী দল গ্রুপ সেরা হিসেবে সেমিফাইনালে যাবে।

আফগানিস্তানকে আগের ম্যাচে ৪৫ রানে হারানোর পরই বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। নেপাল তো আর অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশকে হারাতে পারার কথা নয়! এর মধ্যে আজ নেপালকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বাংলাদেশ বোলিংয়েই অর্ধেক কাজ সেরে ফেলে।   

ওপেনার আকাশ ত্রিপাঠির ৭৭ বলে ৪৩ রান, উইকেটকিপার উত্তম মাগারের ৬৯ বলে ২৯ রান আর শেষ দিকে অভিষেক তিওয়ারির ৩৫ বলে ২৯ রান – নেপালের ইনিংসে বলার মতো স্কোর এ তিনটিই। এর বাইরে বাকি আট ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। যাঁরা রান করেছেন, তাঁদের কারওই স্ট্রাইকরেট ১০০ ছোঁয়নি, ত্রিপাঠি (৫৫.৮৪) আর অভিষেকের (৮২.৮৫) বাইরে ৫০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটই কারও নেই। ‘টেস্টসুলভ’ এমন ব্যাটিংয়ের পরও ১৪১ রান করে যখন অলআউট হয় নেপাল, ইনিংসে ২৬ বল তখনো বাকি।

জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই ওপেনার কালাম সিদ্দিকীকে (০) হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে জাওয়াদের সঙ্গে ৯১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন অধিনায়ক তামিম। এরপর বাংলাদেশ অবশ্য জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারিয়েছে। জাওয়াদের (৬৫ বলে ৫ চার ৪ ছক্কায় ৫৯) পরের বলেই শিহাব জেমসও (০) দলকে ৯১ রানে রেখেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

ফরিদ হোসেনের (১৩) সঙ্গে আবার ৪৩ রানের জুটি গড়েন তামিম। এরপর আবার পরপর দুই বলে দুই উইকেট। দলকে ১৩৪ রানে রেখে ফরিদের পর আউট হয়ে যান রিজান হোসেনও (০)। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশ তো জয়ের একেবারে কাছেই পৌঁছে গেছে, বাকি পথটুকু দেবাশীষ দেবাকে (৫) নিয়ে নির্বিঘ্নেই পাড়ি দেন তামিম। শেষ পর্যন্ত তাঁর অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস এসেছে ৭২ বলে, ২ চার ৩ ছক্কায়।