দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরুটা সুখকর হয়নি পাকিস্তানের। গতকাল মঙ্গলবার ডারবানে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১১ রানে হেরেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-বাবর আজমেরা। প্রোটিয়াদের দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে বলার মতো লড়াইটা করেছেন শুধু রিজওয়ান। অন্য প্রান্তে সতীর্থদের থেকে তেমন সমর্থন না পেলেও ৭৪ রানের (৬২ বল) ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন। তাতে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। ১৭২ রানে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস।
একা লড়াই চালালেও রিজওয়ানের ব্যাটিং কৌশল নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না। পাকিস্তানি অধিনায়ক যেমন মন্থর গতিতে ব্যাটিং করেছেন, তাতে সমালোচনা অনুমিতই ছিল। রিজওয়ান ফিফটি করতেই খেলেছেন ৫০ বল। পরে কিছুটা আগ্রাসী হলেও দলকে জেতাতে পারেননি।
তবে গতকাল ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন পাকিস্তানি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তানের অন্য বোলাররা যেখানে দেদারসে রান বিলিয়েছেন, শাহীন সেখানে ৪ ওভারে খরচ করেছেন মোটে ২২ রান। উইকেট শিকার করেছেন ৩টি। এতে দারুণ একটা কীর্তি ছুঁয়েছেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট হয়ে গেল শাহীনের।
ক্রিকেটের অন্য দুই সংস্করণে (টেস্ট ও ওয়ানডে) উইকেটের সেঞ্চুরি আগেই ছুঁয়েছেন শাহীন। গতকাল টি-টোয়েন্টিতেও ১০০ উইকেট হওয়ায় চক্রটা পূর্ণ হলো। তাতে মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে তিন সংস্করণেই অন্তত ১০০ উইকেট নেওয়ার বিরল ক্লাবে ঢুকে গেলেন পাকিস্তানি পেসার। শাহীনের আগে এ কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন শুধু টিম সাউদি, সাকিব আল হাসান ও লাসিথ মালিঙ্গা।
অবশ্য একটা জায়গায় বাকি তিনজনকেই ছাড়িয়ে গেছেন শাহীন। সবচেয়ে কম বয়সে এ ক্লাবে প্রবেশ করলেন তিনি। এ কীর্তিতে পাকিস্তানি পাকিস্তানের বোলারের মধ্যে শাহীনই যে প্রথম, সেটা বোধহয় না বললেও চলে।
শুধু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় নিলে, হারিস রউফ ও শাদাব খানের পর তৃতীয় পাকিস্তানি হিসেবে উইকেট প্রাপ্তিতে তিন অঙ্ক ছুলেন শাহীন। ৭৪তম ম্যাচে এসে ১০০ উইকেট পূর্ণ হলো পাকিস্তানি পেসারের। রউফ অবশ্য ৭১ ম্যাচেই ১০০ টি-টোয়েন্টি উইকেটের ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা শাহীন ৩১ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ১১৬ টি। এর বাইরে ৫৬ ওয়ানডেতে শিকার করেছেন ১১২টি উইকেট। আর টি-টোয়েন্টি? সেটা দিয়েই তো গতকাল রেকর্ড বইয়ে নামটা উঠালেন।