বিপিএলে বেতন না পাওয়া নিয়ে কী অবস্থান বিসিবির?

গতকাল বুধবার বিপিএলে ঘটেছে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। পারিশ্রমিক না পেয়ে অনুশীলন বর্জন করেছে দুর্বার রাজশাহী। বারবার সময়ক্ষেপণের পরও প্রতিশ্রুত বেতন পাননি ক্রিকেটাররা।  ফ্র্যাঞ্চাইজির দেওয়া চেক বাউন্স হয়েছে। এ কারণে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে না যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ শুরু হচ্ছে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব। তার আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে অনুশীলন করার কথা ছিল রাজশাহীর। তবে অনুশীলনের দশ মিনিট আগে দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, অনুশীলন হবে না। পরে এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন বলেও জানা গেছে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন রাজশাহীর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন রাজশাহীর মালিক শফিক রহমান পেমেন্ট দেওয়ার দিন তারিখ বেশ কয়েকবার পিছিয়েছেন। বিপিএল শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো বেতন পাননি স্থানীয় ক্রিকেটাররা। তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের ২৫ ভাগ বেতন দেওয়া হয়েছে গত ৬ জানুয়ারি।

এই ঘটনার পর বিসিবি প্রধান ফারুক বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে বসেছিলেন। এরপর রাজশাহীর মালিক শফিক রহমান, অধিনায়ক এনামুল হক এবং আরও কয়েক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু পরিচালক মঞ্জুরুল আলম যখন গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখনো সমস্যা কাটেনি।

মঞ্জুরুল বলেছেন, ‘আমি বিসিবি সভাপতির পক্ষ হয়ে কথা বলছি। সভাপতি জুমে জরুরি মিটিং ডেকেছেন। আমি সরাসরি ছিলাম, বাকিরা অনলাইনে ছিলেন। সমঝোতা চলছে। আশা করি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) একটা সমাধান হবে। সভাপতি দলের মালিক, অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। সবাই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আগামীকাল সবাই অনুশীলনে যাবেন, এটাই সবচেয়ে ভালো দিক। ’ 

এবারের বিপিএল সবকিছু ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল। বলা হয়েছিল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের ৫০% বেতন দিয়ে দিতে হবে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ২৫% এবং শেষে বাকি ২৫%। এর বাইরে প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ৮ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে বলা হয়েছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনুরোধে সেটা ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল ছাড়া অন্য কোনো দল সেটাও দেয়নি বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।

তাসকিনদের প্রাথমিকভাবে চেক দিয়েছিল মালিকপক্ষ। কিন্তু ৯ জানুয়ারি সেই চেক বাউন্স হয়। এতে খেলোয়াড়রা ১০ জানুয়ারির ম্যাচ না খেলার হুমকি দেন। দলের মালিক শফিক রহমান তখন জানান, ১৪ জানুয়ারি সবাই টাকা পেয়ে যাবেন, কিন্তু সেটা হয়নি বলে গতকাল ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়রা অনুশীলন বয়কট করেন।

ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্রিকেটার জানিয়েছেন, ৫০ ভাগ বেতন না পেলে আগামীকাল ১৭ জানুয়ারি সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবেন না তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের ডেইলি অ্যালাউন্সেও ঝামেলা করেছে রাজশাহী। গত ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি নিজেদের অর্থে চলেছেন ক্রিকেটাররা।