তামিম ইকবালের প্রশ্ন

‘এক দলের নেতৃত্বে থেকে আরেক দলের সঙ্গে যুক্ত হলে সমস্যাটা কোথায়?’

কদিন আগে খবরটা ছড়িয়ে পড়ার থেকেই এ নিয়ে আলোচনা ছিল। খবরটা ছিল এই যে, তামিম ইকবাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবারই উঠে আসা দল গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর হতে যাচ্ছেন। কিন্তু কদিন আগেই বাংলাদেশের জার্সিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে দেওয়া তামিম তো ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়েননি, সব ঠিক থাকলে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) মোহামেডানের অধিনায়কও তিনি। মজার ব্যাপার, মোহামেডান মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের!

সে কারণেই আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তামিমকে ঘিরে তো স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তৈরি হতে যাচ্ছে। তবে আজ সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নে বাঁহাতি ওপেনারের অদ্ভুত উত্তর, এখানে স্বার্থের সংঘাতের কিছু নেই। বরং এক দলের নেতৃত্বে থেকে আরেক দলের সঙ্গে যুক্ত হলে সমস্যাটা কোথায়, এমন পাল্টা প্রশ্নও রেখেছেন তিনি!

গুলশান ক্রিকেট ক্লাবে তাঁর ভূমিকাটা মালিকের নয় জানিয়ে তামিম বললেন, ‘আমি তো গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের মালিক নই, এখানে বড় একটা পার্থক্য আছে।’ একজন সাংবাদিক যখন পাল্টা প্রশ্নে বললেন, সংবাদমাধ্যমের খবর তো ভিন্ন কিছু বলছে, তাতে তামিমের উত্তর, ‘আপনারা (সংবাদমাধ্যম) এই বয়ান ছড়িয়েছেন যে আমি গুলশানের (ক্রিকেট ক্লাব) মালিক। আমি শুধু এতটুকুই বলেছি যে আমি দলটার সঙ্গে আছি।’

এরপরই তাঁর অদ্ভুত প্রশ্ন, ‘একটা দলের নেতৃত্বে থেকে আরেক দলের সঙ্গে যুক্ত হলে সমস্যাটা কোথায়?’ স্বার্থের সংঘাতের ব্যাখ্যা আর কী দাঁড়ায়, সেটিই তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় তামিমের কাছে।

তবে তামিম সংবাদমাধ্যমের সামনে বললেন, ‘আমি যদি গুলশানের বিপক্ষে দ্রুত আউট হয়ে যাই, তখন কী বলবেন, আমি ইচ্ছা করে আউট হয়েছি?’

কেন তিনি স্বার্থের সংঘাত দেখেন না, সে ব্যাখ্যায় তামিম বলেছেন, ‘আমি কোনো স্বার্থের সংঘাত দেখি না, কারণ আমি দলটার (গুলশান) মালিক নই। আমি ওদের জন্য স্পনসর এনে দিয়েছি, সর্বোচ্চ এতটুকুই বলতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে বললে, আমি এখানে কোনো ঝামেলা দেখি না।’

বরং সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর ঝাঁঝাল পরামর্শ থাকল, ‘সবকিছু সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখা ঠিক না। স্পনসররা না এলে ১৫-২০ জন খেলোয়াড় হয়তো দলই পাবে না। ব্যাপারটাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখুন। সব সময় নেগেটিভ দিকে মনোযোগ দেওয়ার বদলে পজিটিভগুলোও ভাবুন।’

পজিটিভটা কী? তামিম নিজে থেকেই তা জানিয়ে দিলেন, ‘আমি যদি স্পনসর এনে না দিতাম, অন্য অনেকেও যদি এগিয়ে না আসত, খেলোয়াড়দের বেতন অর্ধেক হয়ে যেত। আমি শুধু একটা উদাহরণ দিচ্ছি। কিন্তু স্পনসররা না এলে ক্রিকেটেরই ক্ষতি। তাই খারাপটা না দেখে খেলাটার দিকটা ভাবুন, খেলোয়াড়দের কথা ভাবুন।’

গুলশান এবার ডিপিএলে শেষ মুহূর্তে দলে টেনেছে লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানকে। তাঁরা দুজনই ডিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে দল পাননি। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে লেখা, দলগুলো তাঁদের প্রত্যাশিত বেতন দিতে রাজি ছিল না। এ দুজনের উদাহরণ টেনে এনে তামিম বললেন, ‘আপনাদের বুঝতে হবে যে লিটন আর মোস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়েরা দেশের সেরাদের মধ্যে পড়ে। এটা হতেই পারে না যে ওরা প্রিমিয়ার লিগে খেলবে না।’