আমিরাতের সামনে হাবুডুবু খেয়ে পাকিস্তানের জন্য প্রস্তুত হলো বাংলাদেশ

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে যে পরিস্থিতিতে পড়েছিল, তাতে এক শ পার করা নিয়েই শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। সে লজ্জায় পড়তে হয়নি, জাকের আলী অনিক ও টেল এন্ডারদের দৃঢ়তায় ৯ উইকেটে ১৬২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। 

তবে শারজার উইকেটে প্রথম দুই ম্যাচেই বোঝা গেছে এই রান নিরাপদ না। ৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত জিতে গেল সিরিজের শেষ ম্যাচ। তাতে এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর আরেকটি সহযোগী দেশের কাছে সিরিজ হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার যে কাজে ব্যর্থ, সেটাই দারুণ দক্ষতায় করেছেন আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ খেলা অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম গতকাল মাত্র ৯ রান করেই আউট হয়ে যান। মুহাম্মদ জোহাইব আগের দিনের মতোই এগিয়েছেন ওয়ানডে ছন্দে। কিন্তু আলিশান শাফারুর দুর্দান্ত ব্যাটিং রানরেট কখনো নাগালের বাইরে যেতে দেয়নি।  

পাওয়ার প্লেতেই ৫০ রান তোলে স্বাগতিক দল। জোহাইব (২৯) ও রাহুল চোপরা (১৩) ফিরে যান ২০ বলের মধ্যে। কিন্তু আসিফ খান এসে হাল ধরেন। দুজনের জুটিতে ৫১ বলে এসেছে ৮৭ রান। ৪৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছকায় ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন আলিশান। আর সিরিজ জুড়েই পাওয়ার ক্রিকেট দেখানো আসিফ খান ৫ ছক্কায় ২৬ বলে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

অথচ বাংলাদেশ এই সিরিজ খেলতেই নেমেছিল পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রস্তুতিতে দুই ম্যাচ খেলার কথা ছিল। সে সিরিজের ম্যাচ আরেকটি বাড়ানো হলো, সে সিদ্ধান্তের পর হওয়া দুই ম্যাচেই হেরে বসল বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ ম্যাচে পেছনে পড়ে গিয়েছিল নিজেদের ইনিংসেই। টস হেরে ব্যাট করতে নামার পর বেশির ভাগ সময়ই বাংলাদেশের ব্যাটিং রীতিমতো কাঁপাকাঁপি করেছে। তানজিদ হাসানের প্রথম ওভারে এক চার ও এক ছক্কার ভালো শুরু মলিন হতে শুরু করে পরের ওভারের প্রথম বলে পারভেজ হোসেনের বিদায়ে।

প্রথম টি–টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রামে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন গতকাল ফিরেছেন গোল্ডেন ডাকে। লিটন দাস ১৪ রান করলেও ফেরার আগে তাওহীদ হৃদয় স্কোরারদের কোনো বিপাকে ফেলেননি (০)। ফলে অন্যপ্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম চার-ছক্কা মেরে তুলকালাম করে ফেললেও বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হচ্ছিল।

পাওয়ার প্লে শেষে ৪ চার আর ৪ ছক্কায় ১৮ বলে ৪০ রান করা তামিম বোল্ড হন। ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৭১ রান হতে সময় লাগেনি। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৮৪। 

নবম উইকেটে হাসান মাহমুদকে নিয়ে জাকের ২৬ বলে ৪৪ রান এনে দেন। ৩৪ বলে ৪১ রান তোলা জাকের উনিশতম ওভারে বিদায় নেওয়ার সময় দলের রান ছিল ১২৮। পরের ১০ বলে হাসান আর শরীফুল দলকে এনে দিয়েছেন ৩৪। শেষ ৪ ওভারে ৬৪ রানের এই লড়াইও পারেনি বাংলাদেশকে বাঁচাতে।