কাগজে-কলমে কিংবা শক্তিমত্তায় ‘বি’ গ্রুপের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দলটির নাম হংকং। সুপার ফোরে ওঠার দৌড়ে গ্রুপের বাকি তিনদল বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা- প্রত্যেকেই দুর্বল হংকংয়ের বিপক্ষে যতটা সম্ভব বড় ব্যবধানে জিতে রানরেট বাড়িয়ে শেষ চারের দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখতে চাইবে। এর মধ্যে আফগানিস্তান টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংকে ৯৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক সেরে রেখেছে আগেই।
সেই হংকংয়ের বিপক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার চলতি এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে দিন শেষে জয়ী দলটার নামও বাংলাদেশ। কিন্তু যে বড় ব্যবধানের জয় প্রত্যাশা করেছিল সমর্থকেরা, সেটা আদায় করতে পারেননি লিটন দাসরা।
আগে ব্যাটিং করে হংকং নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তুলেছিল। ৭ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচটা জিতলেও জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ইনিংসের ১৭.৪ ওভার পর্যন্ত। ১৪ বল হাতে রাখা জয়ে তাই বাংলাদেশের নামের পাশে ‘মোটে’ +১.০০১ রানরেট যোগ হয়েছে। যেখানে আফগানিস্তান প্রথম ম্যাচ থেকে +৪.৭০০ রানরেট আদায় করেছে!
অতৃপ্তিটা শুধু রানরেটে নয়। এক লিটন দাস বাদে টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিংটাই বা করলেন কে? পাওয়ার-প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৪৭ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ১৪ বলে ১৯ রান করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৫.৪ ওভারের মাথায় আতিক ইকবালের বলে নিজাকাত খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে একই পথ ধরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (১৮ বলে ১৪ রান)।
এরপর ম্যাচের হাল ধরেন লিটন-তাওহিদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ৭০ বলে ৯৫ রানের জুটিতে জয়ের খুব কাছে চলে যায় বাংলাদেশ। জয় থেকে দুই রান দূরে থাকতে বোল্ড হয়েছেন লিটন দাস। ফেরার আগে ৩৯ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
অন্যপ্রান্তে তাওহিদ হৃদয় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকলেও এই রান করতে বল খেলেছেন ৩৬টি! ওয়ানডেসুলভ ইনিংসে তাওহিদ চার মেরেছেন মোটে একটি। লিটন আউট হওয়ার জাকের আলী উইকেটে গিয়ে এক বল খেললেও কোনো রান করতে পারেননি।
টি-টোয়েন্টিকে প্রায় ওয়ানডে বানিয়ে জেতা ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের অতৃপ্তি থাকলেও জিততে পেরেই খুশি লিটন দাস। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানিয়েছেন, উইকেটে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না।
ম্যাচ শেষে লিটন বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচটা জেতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ কয়েকটা সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে এশিয়া কাপে না চাইলেও চাপ চলে আসে (হাসি)। আজ আমরা ভালো খেলেছি।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক যোগ করেন, ‘শেষ কয়েক বছরে আমাদের পেসাররা খুব ভালো করেছে। আমরা একজন লেগ–স্পিনার খুঁজছিলাম। রিশাদ গত দুই-তিন বছর ধরে বাংলাদেশ দলের জন্য ভালো করছে। উইকেট কিছুটা স্লো ছিল। তাই মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের সাবধানে ব্যাটিং করতে হয়েছে। প্রতিটি বলে মারাটা সহজ ছিল না। মাঠটা বেশ বড়, তাই আমাদের সিঙ্গেল-ডাবলসের ওপর ভরসা করতে হয়েছে।’