জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ৪ উইকেট হাতে থাকা আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৩১ রান। এমন পরিস্থিতিতে বোলিংয়ে এসে আগের ৩ ওভারে মোটে ৭ রান দেওয়া নাসুম আহমেদ খরচ করলেন মোটে ৪ রান। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে আবার রান আউট হয়েছেন করিম জানাত (৬)।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে রাশিদ খানকে (১১ বলে ২০ রান) ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে গাজানফরের উইকেটসহ মোস্তাফিজ দিলেন মোটে ৫ রান। তাতে শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের দরকার তখন ২২ রান।
তাসকিন আহমেদ দুই ছক্কা হজম করলেও শেষ বলে নূর আহমেদকে ফিরিয়ে অলআউট করে আফগানদের। তাতে আফগানিস্তান ১৪৬ রানে গুটিয়ে গেলে ৮ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। এ জয়ে টুর্নামেন্টে সুপার ফোরে ওঠার আশা বেঁচে থাকল লিটন দাসদের।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার আবুধাবির একই ভেন্যুতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে আফগানরা। ওই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে কোন দুদল উঠবে সুপার ফোরে।
ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতে গেলে, লঙ্কানদের সঙ্গে শেষ চারে উঠে যাবে বাংলাদেশ। তবে যদি আফগানরা জিতে যায়, তখন আসবে রানরেটের হিসেব। মোটকথা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফগানিস্তানের পরের ম্যাচটার দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।
গতকালের ম্যাচে ফেরা যাক। শুরুতে তানজিদ হাসান তামিম (৩১ বলে ৫২ রান) ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৫৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
রান তাড়া করতে নামা আফগানিস্তানকে শুরুতেই ধাক্কা দেন নাসুম আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতে সেদিকুল্লাহ আতালকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। সে বিপদ কাটিয়ে ওঠার আগেই আফগান শিবিরে আবারও আঘাত হানেন নাসুম। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ইব্রাহিম জাদরানকে যখন এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেন, তখন আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৮ রান।
এরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজের (৩৫) ব্যাটে ভর করে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় আফগানিস্তান। ইনিংসের ৯, ১১ ও ১৩তম ওভারে তিনটি উইকেট পায় বাংলাদেশ। তাতে ১৩ ওভার শেষে আফগানদের স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৭৭ রান। জয়ের জন্য তখনো ৪২ বলে ৭৮ রান দরকার আফগানিস্তানের। ম্যাচ হেলে পড়েছে বাংলাদেশের দিকে।
সেখান থেকে শেষ দিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই (১৬ বলে ৩০ রান) ও রাশিদ খান চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয় থেকে ৮ রান দূরে থেমে যায় আফগানদের ইনিংস। এতে সুপার ফোরের আশা টিকে থাকে বাংলাদেশের।
আফগানদের আটকে দিতে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসুম আহমেদ। ৪ ওভারে মোটে ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া মোস্তাফিজ ২৮ রানে ৩ উইকেট, রিশাদ হোসেন ১৮ রানে ২ উইকেট ও তাসকিন ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।