আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হঠাৎ ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে মাত্র ৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদের হোসেনের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছিল ইনিংসের ৮ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে।
গতকাল শুক্রবার শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও প্রায় একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের ১৫১ রান তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে সমর্থকদের মনে ভয় ধরিয়ে দেন ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।
তাতে শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১৯ রান। হাতে মোটে ২ উইকেট। চাপে পড়া বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করতে আবারও ঢাল হয়ে দাঁড়ান সোহান। এবার তাঁকে সঙ্গ দেন শরীফুল। নবম উইকেট জুটিতে দুজনের ৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ২১ রানের সুবাদে ইনিংসের ৫ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেন জাকের-সোহান-শরীফুলরা।
বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার পথে ২১ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন সোহান। অন্যদিকে ৬ বলে ২ চারে ১১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন শরীফুল। শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন শরীফুল। ৪ ওভারে মোটে ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি পেসার। অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন শরীফুল।
গতকাল অবশ্য রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ পাওয়া প্লে-তে তুলতে পেরেছে মোটে ৩৭ রান। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন- দুজনেই ২ রান করে আউট হয়েছেন। তিনে নামা সাইফ হাসান ঝড়ো শুরু করলেও ইনিংস ১৮ রানের বড় করতে পারেননি।
শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়লেও জাকের আলী-শামীম পাটোয়ারির চতুর্থ উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দুজনে মিলে ৩৭ বলে ৫৬ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। দলকে ৮০ রানে রেখে রাশিদ খানের বলে এলবিডাব্লিউ হন ২৫ বলে ৩২ রান করা জাকের। আর দলের রান তিন অঙ্ক ছোঁয়ার একটু পরেই বিদায় নেন শামীম (২২ বলে ৩৩)।
সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্রনাট্যে বড় পরিবর্তন আসে। রাশিদ খানের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে নাসুম আহমেদ (১০) যখন বোল্ড হলেন, বাংলাদেশের রান তখন ৬ উইকেটে ১২২। আজমতউল্লাহ ওমরাজাইয়ের পরের ওভারে সাইফউদ্দীন (৪) ও রিশাদ (২) যখন বিদায় নিলেন, চাপ আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে তখন ১৯ রানের সমীকরণ। ওমন পরিস্থিতিতে নূর আহমেদের করা ১৯তম ওভারে সোহান আর শরীফুল ১৭ রান তুলে ম্যাচের গতিপথ বাংলাদেশের দিকে টেনে আনেন। আর ইনিংসের শেষ ওভারে আজমতউল্লাহর প্রথম বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন শরীফুল। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয় সিরিজ জয়ও। আগামীকাল একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুদল।