২০ ওভারের মধ্যে ১৪টিতেই রানটাকে এক অঙ্কে বেঁধে রাখা গেছে। এই ১৪টির মধ্যে ৮টিতেই আফগানিস্তান রান পেয়েছে ৫ বা তার কম। শরীফুল ইসলাম ৪ ওভারে ১ উইকেট নেওয়ার বিপরীতে রান দিয়েছেন মাত্র ১৩টি, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিপটে বোলিং করা নাসুম আহমেদ ২৫ (২ উইকেট), শরীফুলের মতো আজ একাদশে ঢোকা সাইফউদ্দিন দিয়েছেন ২২ রান। মোস্তাফিজ আর রিশাদই যা পিটুনি খেয়েছেন, দুজনই রান দিয়েছেন ৪০-এর ঘরে।
এতেই আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত শারজায় আজ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তুলতে পেরেছে ১৪৮ রান। প্রথম ম্যাচে ১৫১ রান তুলে লড়াইটাকে শেষ পর্যন্ত কঠিন করে তুলতে পারলেও জিততে না পারা আফগানিস্তান আজ আর বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হতে পারবে?
অনুমানে সহজেই হ্যাঁ কিংবা না বলে দেওয়ার আগে অবশ্য দুটি ব্যাপার ভাবনায় রাখতে হয়। এক, ব্যাটিং লাইনআপটা বাংলাদেশের, যারা এশিয়া কাপ থেকেই হঠাৎ ধসে পড়ার অভিজ্ঞতায় ‘ঋদ্ধ!’ এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভেঙে পড়ে ম্যাচ হেরেছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে না হারলেও হঠাৎ পতনের পরম্পরা জারি রেখেছে! দুই, বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময়ে রিশাদ হোসেন মাঝেমধ্যে বড় টার্ন পেয়েছেন, যা আফগানিস্তানের বোলিং লাইনআপে রাশিদ খানের উপস্থিতিকে আরও বড় চিন্তার বিষয় করে তুলতে পারে বাংলাদেশের জন্য। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তাঁর বোলিংয়েই টপাটপ উইকেট পড়েছে কিনা! তারওপর শারজায় দ্বিতীয় ইনিংসে পিচটা স্পিনারদের দিকে হাত বাড়াতে পারে বলে পিচ রিপোর্টে জানিয়েছিলেন রমিজ রাজা।
তা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কী হবে, সেটা আগ্রহ জাগাচ্ছে। তবে তার আগে বোলাররা তাঁদের কাজটা দারুণভাবেই করেছেন! শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আফগান ব্যাটসম্যানদের হাত বেঁধে রেখেছেন।
রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে ওপেনিং থেকে তিনে নিয়ে পাওয়ার প্লে-তে তাঁর পাওয়ার হিটিংয়ের দক্ষতার অভাবটা অনুভব করছে কি না আফগানিস্তান, সেটা এখন দলটার থিংক ট্যাঙ্ক ভাবতেই পারে! আজও পাওয়ার প্লে-তে দুই ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও ইব্রাহিম জাদরান মিলে তুলতে পেরেছেন ৩৫ রান, সেটাও ষষ্ঠ ওভারে ১৩ রান পাওয়ায়। প্রথম পাঁচ ওভারে শরীফুল-নাসুম-সাইফউদ্দিনদের দারুণ বোলিংয়ের পর বল পুরোনো হওয়ার আগে বাংলাদেশ ষষ্ঠ ওভারে মোস্তাফিজকে কেন এনেছে, সেটাও প্রশ্ন হতে পারে বৈকি! একই প্রশ্ন এশিয়া কাপেও উঠেছিল।
ষষ্ঠ ওভারে মোস্তাফিজকে পরপর দুই বলে ছক্কা আর চার মেরেছেন ইব্রাহিম জাদরান, আর শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা সেদিকুল্লাহ (১৯ বলে ২৩) অষ্টম ওভারে রিশাদের বলে আউট হওয়ার আগের দুই বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরেছেন। ওই দুই ছক্কার দ্বিতীয়টিতে আফগান ইনিংস ফিফটি পেরিয়েছে। দলকে ৭১ রানে রেখে ইব্রাহিম (৩৭ বলে ৩৮) ১১তম ওভারে আউট হলেন নাসুমের বলে। পরের ওভারের প্রথম বলে রিশাদ ফেরালেন ওয়াফিউল্লাহ তারাখিলকে। দারউইশ রাসুলি দুটি ছক্কা মারলেও তাঁকেও ১৪তম ওভারে ফেরান নাসুম, তখনো আফগানিস্তানের রান ৯০।
সেখান থেকে আফগানিস্তান যে ১৫০-এর কাছাকাছি গেল, সেটা সম্ভব হয়েছে তিনে নামা গুরবাজ (২২ বলে ৩০), আর ছয়-সাতে নামা আজমাতউল্লাহ ওমারজাই (১৭ বলে ১৯) ও মোহাম্মদ নবীর (১২ বলে ২০) সৌজন্যে।



