মেয়েদের ক্রিকেটে যৌন হেনস্তা ও অসদাচরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, যৌন নিপীড়ন বা হেনস্তার মতো বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের তদন্ত কমিটিতে যুক্ত করার দাবি উঠেছিল।
এর মধ্যে আজ বিসিবি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তদন্ত কমিটিকে তিন থেকে পাঁচ সদস্যের করা হচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন দুজন আইন বিশেষজ্ঞ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান প্রফেসর ড. নাইমা হক এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে তদন্ত কমিটিতে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে বিসিবি।
এ দুজনকে নিয়ে তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্যের তালিকা –
১. বিচারপতি তারিক উল হাকিম (কমিটির চেয়ারম্যান) – সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক।
২. প্রফেসর ড. নাইমা হক – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান ও বাংলাদেশের আইন কমিশনের বর্তমান সদস্য।
৩. ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও বাংলাদেশ উইমেন স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
৪. ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট।
৫. রুবাবা দৌলা, বিসিবি পরিচালক।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মেয়েদের ক্রিকেট দলের পেসার ও সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে যৌন হেনস্তার ভয়ংকর অভিযোগ তুলেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া জাহানারা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় দলে খেলার সময়ে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে বিসিবিতে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন জাহানারা। তাঁর অভিযোগ মূলত বিসিবির মেয়েদের দলের সাবেক নির্বাচক ও ছেলেদের দলের সাবেক বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে।
জাহানারার সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটসহ অন্য খেলার অনেক নারী খেলোয়াড়ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন।