অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক পাকিস্তানের, ইচ্ছে করে জিম্বাবুয়েকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

অনূর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান যুব দল। জিম্বাবুয়ের হারারেতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর গতির ক্রিকেট খেলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে দুই ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

গতকাল হারারেতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ দল ১২৮ রানেই অলআউট হয়ে যায়। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওপেনার সামির মিনহাস ও আহমেদ হুসেইন মিলে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। প্রথম ১২ ওভারের মধ্যেই ২ উইকেটে ৭৪ রান তুলে পাকিস্তান। 

কিন্তু এরপরই আচমকা পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য করা যায় অস্বাভাবিক ধীরগতি। ২৬ ওভার শেষে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত ২৭তম ওভারের প্রথম দুই বলেই টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন মিনহাস। পাকিস্তান ২৬.২ ওভারে রান তাড়া করে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।

পাকিস্তানের এমন ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণে গ্রুপ ‘সি’ থেকে স্কটল্যান্ডকে পেছনে ফেলে জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে জায়গা নিশ্চিত করেছে। 

আইসিসির যুব বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্স পর্বে প্রতিটি গ্রুপ থেকে ৩টি করে দল যাবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে দুই দলেরই পয়েন্ট ছিল ১।

পাকিস্তানের কাছে হারের পর জিম্বাবুয়ের রান রেট (-২.৯১৬), অন্যদিকে ৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডের রান রেট (-২.৯৮৬)। 

শেষ দিকে পাকিস্তানের ধীর গতির ক্রিকেটের কারণে জিম্বাবুয়ের রান রেট স্কটল্যান্ডে পেছনে যায়নি। আর এই কারণেই গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে সুপার সিক্সে উঠেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

পাকিস্তানের এমন ধীর গতির ক্রিকেট নিয়ে সমালোচনা হলেও এই কৌশলকে সমর্থন করেছেন সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, “তারা আগে নিশ্চিত করেছে যে ম্যাচটি হারবে না। এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে গতি কমিয়েছে, যাতে জিম্বাবুয়ে পরের পর্বে ওঠে। কেউ কেউ এটাকে নৈতিকতার প্রশ্নে ফেলতে পারেন, তবে আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এতে সমস্যা নেই।”

ম্যাচের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রুপের অবস্থান প্রভাবিত করা খেলাধুলার নৈতিকতার পরিপন্থী বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পাকিস্তানের সমালোচনা করছেন। যদিও পাকিস্তান সহজেই ম্যাচ জিতেছে, তবু অনেকের চোখে এই ধীরগতির ব্যাটিং ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে অনেকেই মনে করছেন স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে গেলে পাকিস্তান কম রান রেটে পরের রাউন্ডে যেত, তাই পাকিস্তান এমন ব্যাটিং করেছে যাতে করে স্কটিশদের বিদায় নিশ্চিত হয়। 

আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ পরিস্থিতি প্রভাবিত করার প্রমাণ মিললে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এমন উদ্দেশ্য প্রমাণ করা বাস্তবে বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।