বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে পেয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি 

ওভার দ্য উইকেটে এসে বাঁহাতি অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান ওলিভার ডেভিডসনকে বোল্ড করতেই কলকাতার ইডেন গার্ডেনসের দর্শকরা উল্লাসে মাতেন। বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই হ্যাটট্রিক বলে কথা- উল্লাস করাটাই স্বাভাবিক। ১৭তম ওভারে রোমারিও শেফার্ডের এই হ্যাটট্রিক স্কটল্যান্ডকে তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। এটিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্যারবিয়ান কোনো বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিক। 

শুধু হ্যাটট্রিক করেই থামেননি শেফার্ড। একই ওভারের শেষ বলে আরও এক উইকেট নিয়ে ৫ বলে ৪ উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। পুরো ইনিংসে ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন শেফার্ড। 

শেফার্ডের হ্যাটট্রিকে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বদলে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচে তেমন লড়াই করতে পারেনি স্কটিশরা। 

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানেই গুটিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। রান তাড়ায় নেমে ৩৭ রান তুলতেই ৩ উইকজেত হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্কটল্যান্ড। তবে চতুর্থ উইকেটে রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুসের জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় স্কটিশরা।

এক পর্যায়ে ম্যাচের সমীকরণ দাঁড়ায় ৪২ বলে ৬৯ রানের। তখনো স্কটল্যান্ডের হাতে ছিল ৭ উইকেট। তবে চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের এই জুটিতে ১৩.১ ওভারে ১১৫ রানে পৌঁছানোর পরই আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। ১৪তম ওভারে জেসন হোল্ডারের বলে ৪২ রান করে বেরিংটন ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় স্কটল্যান্ড।

চাপা থাকা স্কটিশরা ১৭তম ওভারে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় শেফার্ডের কারণে। ১৭তম ওভারে ম্যাথু ক্রস, মাইকেল লিস্ক ও অলিভার ডেভিডসনকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। এক বল বিরতি দিয়ে সাফিয়ান শরিফকে আউট করে নেন ইনিংসের পঞ্চম উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। 

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ক্যারিবিয়ানরা কিছুটা ধীরগতির ইনিংসে খেললেও মাঝ ওভারে হেটমায়ারের ঝোড়ো ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৮২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২ বলে ফিফটি করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন হেটমায়ার। ভেঙে দেন ২০০৯ সালে ক্রিস গেইলের করা ২৩ বলের রেকর্ড। ৬ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। রভম্যান পাওয়েল (১৪ বলে ২৪) ও শেরফানে রাদারফোর্ডের (১৩ বলে ২৬) ক্যামিও ইনিংসে শেষ দিকে ১৮২ রানের সংগ্রহ পায় ক্যারিবীয়রা।