পাকিস্তান সুপার লিগে একদিনে একাধিক বিতর্কিত ঘটনার দেখা মিলেছে। মোস্তাফিজুর রহমানের দল লাহোর কালান্দার্সের বিরুদ্ধে গতকাল বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে ম্যাচ শেষে লাহোরের বিদেশি ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা ও অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির বিরুদ্ধে এল গুরুতর অভিযোগ।
এই দুই ক্রিকেটার লাহোরে হোটেলের নিরাপত্তা নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। করাচি কিংসের বিপক্ষে(গতকালকের ম্যাচ) ম্যাচের আগের রাতে হোটেল কক্ষে ৪ জন বন্ধু এনেছিলেন সিকান্দার রাজা। তবে বন্ধুদের রাতে হোটেলে আনার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এমনকি স্থানীয় পুলিশ সতর্ক করার পরও কথা শোনেননি সিকান্দার রাজা।
ঘটনাটি উত্তাপ ছড়ায় যখন ডিআইজি মুহাম্মদ ফয়সাল পিএসএল সিইও সালমান নাসির ও পিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে বিষয়টি জানান। যেখানে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তবে এই ঘটনায় সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা। গতকাল ম্যাচ শেষে রাজা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যারা এসেছিল তাঁরা এই ক্রিকেটারের বন্ধু হন এবং কয়েকজন পরিবারের সদস্যও।
রাজার অনুরোধেই লাহোর কালান্দার্সের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি অতিথিদের হোটেল ঢুকতে সাহায্য করেছিলেন।
হোটেলে অতিথি আনার ঘটনায় রাজা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শাহিন শাহ আফ্রিদি কাউকে জোর করে কিছু করাননি। আমার বন্ধুরা এবং পরিবার এসেছিল, আমার অনুরোধে আফ্রিদি তাদের (আমার রুমে আসার ক্ষেত্রে) সাহায্য করেছিলেন। যদি এমন হতো যে অতিথিদের আমাদের রুমে নিয়ে আসা নিষিদ্ধ... আমি তা জানতাম না এবং এই ব্যাপারে আফ্রিদিও জানতেন না। এখানে দোষী আমি, আফ্রিদি নন। ও শুধু আমার অনুরোধে সাহায্য করেছে, কারণ এরা আমার পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং বন্ধু। আমি চাইনি বিজনেস সেন্টারে তাদের সাথে দেখা করতে। আমরা উপরে ৪০ মিনিট বসেছিলাম।’
ইএসপিএন ক্রিকইনফো তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিকান্দার রাজা ৪০ মিনিটের কথা বললেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিএসএল সিইওকে দেওয়া পুলিশের একটি চিঠি ভাইরাল হয়েছে। সেই চিঠিতে পুলিশ দাবি করেছে, প্রায় তিন ঘণ্টা অতিথিরা হোটেলে ছিলেন। কালান্দার্সের ভেতরের সূত্র ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, অতিথি নিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে জোর করে প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
এই ব্যাপারে পিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘আমরা দুজন লাহোর কালান্দার্স খেলোয়াড়ের সঙ্গে জড়িত একটি ঘটনার বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি নিয়ে পিএসএলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।’
পুলিশের চিঠিতে পিএসএলকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। এখন পর্যন্ত পিসিবি এবং পিএসএলের তরফ থেকে এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।