বিসিবি-র সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) প্রকাশ করেছে তিনদিন আগে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় খবর হয়ে এসেছে এনএসসি-র এক সিদ্ধান্ত। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি-র পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সে জায়গায় তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি তৈরি করে দিয়েছে এনএসসি।
অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব তিন মাসের মধ্যেই বিসিবিতে একটি নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেওয়া। গতকাল তামিম সেই অ্যাডহক কমিটির প্রধান হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে – তিন মাস পর নির্বাচন হলে সেখানে তামিম নির্বাচন করবেন? তার আগের প্রশ্ন – নির্বাচন করতে পারবেন?
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া ও তামিমদের অ্যাডহক কমিটির ঘোষণা আসে যে সংবাদ সম্মেলনে, বিকেলে এনএসসির পরিচালক আমিনুল এহসানের সেই সংবাদ সম্মেলনেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই অ্যাডহক কমিটিতে থাকা ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না - এ নিয়ে প্রশ্নে আমিনুল এহসান বলেন, ‘আইনে আসলে কী আছে, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’
আইনে কী আছে?
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠনতন্ত্রে এ নিয়ে কিছু বলা নেই। শুধু বলা আছে, এনএসসি তার অধীন কোনো ফেডারেশনের কমিটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না, কিংবা সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রমাণ পেলে সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে এনএসসি অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারবে।
বিসিবির ২০১৭ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গঠনতন্ত্রে তো অ্যাডহক কমিটির ব্যাপারেই কিছু বলা নেই! যেহেতু এ ব্যাপারে কিছু বলা নেই, তাই তামিম ইকবালের ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে আইনি কোনো বাধা থাকার কথা নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তাকে বর্তমান পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।
তামিম নির্বাচন করবেন
তামিম অ্যাডহক কমিটির আয়োজিত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই গতকাল তামিম ইকবালের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে – তিনি নির্বাচন করবেন কি না। উত্তরে তামিম বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা ইলেকশন করব।’ পরে অবশ্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া-না নেওয়া ব্যক্তির পছন্দ জানিয়ে তামিম বলেছেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা, যেখানে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক যে কেউই অংশ নিতে পারেন।