২০১৩ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটিও ছিল ঐতিহাসিক, সেবার হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তবে এরপর দীর্ঘ ১২ বছরে আরও ৫টি সিরিজ খেলেও কখনো সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে আজ চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে দাপটে পারফরম্যান্সে ৪৫৫৫ দিন পর সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
ব্যাটিংটা শুরুর দিকে ভালো না হলেও শান্তর সেঞ্চুরি ও লিটন দাসের ফিফটিতে ২৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে শান্ত-লিটনরা কাজটা সেরে দেওয়ার পর বোলিংয়ে দলের অন্যতম ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নেন। সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের একাই ধসিয়ে দেন এই বাঁহাতি। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে বাংলাদেশ।
ইনিংসের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম দুই ওয়ানডে না খেলা মোস্তাফিজুর রহমান আজ একাদশে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলসকে ফেরান মোস্তাফিজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মোস্তাফিজের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন ৪ রান করা নিকোলস।
পাওয়ার প্লেতে উইল ইয়াংকে সঙ্গে নিয়ে ধীর গতির ব্যাটিং করতে থাকেন আরেক ওপেনার নিক ক্যালি। দশ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের সামলে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন উইল ইয়াং। ১৪তম ওভারে নাহিদ রানার গতির কাছে হার মানেন এই ডানহাতি।
২৫ বলে ১৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইয়াং। এরপর বাংলাদেশকে আরেকটি সফলতা এনে দেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম ল্যাথামকে মাত্র ৫ রানে ফেরান মিরাজ। স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে শরীফুল ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে বসেন কিউই অধিনায়ক।
৫৪ রানে ১ উইকেট থেকে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও কিউইদের হাল ধরেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা ওপেনার নিক ক্যালি।
মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখাও পেয়ে যান ক্যালি। ২২তম ওভারে ৬৮ বলে ফিফটি পূরণ করেন এই বাঁহাতি। ২৪তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় নিউজিল্যান্ড।
তবে মাঝ ওভারে খেই হারিয়ে ফেলেন ক্যালি। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ২৬তম ওভারে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন ৫৯ রান করা কিউই ওপেনার। দলীয় ১০৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
এরপর ক্রিজে নেমে ডিন ফক্সক্রফট দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু অপর প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ আব্বাস প্রথম ওয়ানডের মতো ফের শরীফুল ইসলামের গতির কাছে হার মানেন। ৩০তম ওভারে শরীফুল বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ইনসাইড এইজে ২৫ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন আব্বাস।
দলীয় ১০৮ রানে ৩ উইকেট থেকে ১২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে দলীয় দেড় শ রান স্কোরবোর্ডে তুলতেই ল্যাথামরা ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজের বলে জস ক্লার্কসন(৬ রান) ও নাথাম স্মিথ(২ রান) দুজনেই ফিরেছেন এক অঙ্কের ঘরে। এরপর জেইডন লিনক্স ও উইলিয়াম ওরুর্ককে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো পঞ্চম উইকেটের দেখা পান মোস্তাফিজ। শেষ দিকে ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতেই দলীয় ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের ১৬০ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ম্যাচ ফিরে বাংলাদেশ।
লিটন ৭৬ রান করে ফিরে গেলেও সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত(১০৫ রান)। এই দুজনের ১৮১ রানে ভর করেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।