জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে কখনো ১৭১ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। সেটিও আবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিউইরা লক্ষ্য দিয়েছে ১৮৩ রানের, যা টপকাতে হলে নিজেদের রেকর্ডই ভাঙতে হবে।
এমন বড় লক্ষ্য পেয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থতা উপহার দিলেও ম্যাচ হাতছাড়া হতে দেননি তাওহীদ হৃদয়-শামীম হোসেনরা। দুই ওপেনার তামিম-সাইফ ও অধিনায়ক লিটন দ্রুত ফিরে গেলেও হৃদয়ের ২৬ বলে ফিফটি ও শামীম হোসেনের ১৩ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংসে ১২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।
সেই সঙ্গে চট্টগ্রামে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন লিটন দাসরা। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি একই মাঠে ২৯ এপ্রিল।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই জীবন পেয়েছিলেন তানজিদ তামিম। প্রথম ওভারে এই বাঁহাতি ওপেনারের ক্যাচ ফেলে দেন ইশ সোধি। তবে তামিম জীবন পেলেও পাওয়ার প্লেতে দ্রুত ফিরেছেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান। ষষ্ঠ ওভারে নাথান স্মিথের বলে মাত্র ১০৬ স্টাইক রেটে ১৭ রান করে ল্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ।
পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৪৪ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে মাঝ ওভারে লিটন দাস আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রানার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ২ চার ১ ছক্কায় শেষ পর্যন্ত অল্পতেই থামেন লিটন। নবম ওভারে ইশ সোধির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ইনসাইড এইজে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৫ বলে ২১ রান করা লিটন।
দলের অধিনায়কের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেছেন শুরুতে জীবন পাওয়া ওপেনার তামিম। ইশ শোধির স্পিনে ১১তম ওভারে বড় শট খেলতে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৫ বলে ২০ রান করা তামিম।
দলীয় ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারালেও ক্রিজে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ ফেরান পারভেজ হোসেন ইমন। ১১তম ওভারেই তাওহীদ হৃদয় ও ইমনের ব্যাটে ২ ছক্কা ও ১ চারে আসে ১৮ রান। ১২তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে বাংলাদেশ।
আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা ইমন অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেনি। ১৫তম ওভারে ক্লার্কসনের মিডিয়াম পেসে ১৫ বলে ২৮ রান করে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমন। তখনো বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩১ বলে ৪৯ রান।
ক্রিজে থাকা তাওহীদ হৃদয় দারুণ ছন্দে ছিলেন, সঙ্গী হিসেবে পান শামীম হোসেনকে। এ দুজনে মিলে ১৬তম ওভারেই লক্ষ্য কমিয়ে আনেন। নাথান স্মিথের করা সেই ওভারে শামীম ও হৃদয় দুই ছক্কায় আনেন ১৮ রান। জয়ের সমীকরণ ২৪ বলে ৩০ রানে নেমে আসে। ১৭তম ওভারে ম্যাচ একেবারে নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত ম্যাথিউ ফিসারের ওভারে ২৫ রান আনে স্বাগতিকরা। তরুণ এই পেসার ওভারের শেষ বলেই দিয়েছেন ১৭ রান। দুই নো বলে দুই চার , এক ওয়াইড ও শেষ বলে ৬ রান দেন এই ডানহাতি পেসার।
শেষ পর্যন্ত ১২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। ২৭ বলে ৫১ রান করেন হৃদয়, শামীম খেলেন ১৩ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংস।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে কাটেন ক্লার্ক ও ডিন ক্লিভারের ফিফটিতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড।