হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট, অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে আটকে দিল বাংলাদেশ

হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং, তাসকিন আহমেদের অদ্ভুত ডান্স, এবাদত হোসেনের স্যালুট - ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মোটে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেওয়ার পথে হাসান মাহমুদ উইকেট নিয়েছেন ৬টি। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬টি উইকেটই নিলেন বাংলাদেশি পেসাররা। এতেই স্পষ্ট, ডারউইনে পেসারদের সামনে কতটা ধুঁকেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা।

স্কোরবোর্ডে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যানদের রানের ঘরের দিকে তাকালেও সেটা বোঝা যায়। এক স্টিভেন স্মিথ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ব্যাটসম্যান ২৫ রানও করতে পারেননি। স্মিথ যে শেষ পর্যন্ত ৭১ ইনিংস খেলেছেন, সেখানেও আছে ভাগ্যের ছোঁয়া। মাত্র ২ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্মিথ, কিন্তু এবাদতের বলে তুলে দেওয়া সেই ক্যাচটি নিতে ব্যর্থ হন তানজিদ তামিম! সেই ক্যাচ ছাড়ার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

অবশ্য ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জেইক ওয়েদারাল্ড। কোনো বিপদ ছাড়াই ১১ ওভার পর্যন্ত কাটিয়ে দেন দুজন। ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ৪৫ রান। এর পরের গল্পটা বাংলাদেশের।

ইনিংসের ১২তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন হাসান মাহমুদ। হাসানের বলে ড্রাইভ খেলতে চেয়েছিলেন ওয়েদারাল্ড। সেটি ব্যাটের কানায় লেগে আশ্রয় নেয় লিটনের গ্লাভসে। নিজের পরের ওভারে রাউন্ড দ্য উইকেটে বোলিং করে ২২ রান করা হেডকে ফেরান হাসান। অস্ট্রেলিয়ার তখন ৫২ রানে ২ উইকেট নেই। একটু পরেই আবারও উইকেট শিকারের খুব কাছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২ রানে থাকা স্মিথ স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ধরতে পারেননি তানজিদ তামিম।

অবশ্য তাতে বাংলাদেশের উইকেট উদযাপন থেমে থাকেনি। তিনে নামা মার্নাশ লাবুশেনকে ১ রানেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরান এবাদত। একটু পরে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নেচে উদযাপনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন তাসকিন। বাংলাদেশি পেসারদের দাপটে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে মধ্যাহ্নভোজে যায় অস্ট্রেলিয়া।

পরের সেশনেও ঠিক ৪টি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে মধ্যাহ্নভোজের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিল স্বাগতিকরা। অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন স্মিথ। অবশেষে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে ১৯ রান করা ক্যারিকে বোল্ড করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরান এবাদত। এরপর ওয়েবস্টারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন তাসকিন। পরের গল্পটা আবারও হাসান মাহমুদের।

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে দুই অঙ্ক ছুঁতে দিলেন না। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন মিচেল স্টার্ককেও। এরপর ফেরালেন গলার কাটা হয়ে যাওয়া কামিন্সকে। ভারত ও পাকিস্তানের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি হয় হাসান মাহমুদের। সেখানেই থামেলন না ২৬ বছর বয়সী এ পেসার। লায়নকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ৬ উইকেট শিকার করলেন। তাতে অস্ট্রেলিয়াও গুটিয়ে গেল দুই শ-র আগে, ১৯৮ রানে।