যৌন হয়রানির পর চাকরি হারিয়ে দায়টা ভুক্তভোগী নারীর কাঁধে দিচ্ছেন তিনি  

বড় বড় কথা বলা থামছে না লুইস রুবিয়ালেসের। গত জুলাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে স্প্যানিশ তারকা জেনি এরমোসোকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুমু দেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন প্রধান রুবিয়ালেস। এ নিয়ে চলা বিতর্কে তাঁকে ফুটবল থেকেই নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।

যৌন হয়রানি ও প্রকাশ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেওয়ার শাস্তি হিসেবে আপাতত বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এখনো সে ঘটনায় নিজের কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছেন না রুবিয়ালেস।  

সম্প্রতি এল এস্পানিওল এবং ওকে দিয়ারিওর কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাবেক ফেডারেশন সভাপত। সেখানে দাবি করেছেন, সবাই তাঁর পক্ষেই কথা বলছেন, এমনকি নারীরাও, ‘সাধারণ মানুষ আমার পাশে আছে, বিশেষ করে মেয়েরা। সবার সমর্থনে খুব ভালো আছি। দেখা হলেই সবাই বলে আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায়।’

গত জুলাইয়ে বিজয়ী মঞ্চে রুবিয়ালেসের কাণ্ডের পর ফিফা তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তি দিয়েছে। অন্যান্য ফেডারেশনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ওদিকে ছেলের বিচার আটকাতে নিজেকে চার্চের মধ্যে আটকে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন রুবিয়ালেসের মা। কিন্তু এই কর্মকর্তা নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে পারেননি।

সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট, এখনো নিজের ভুল স্বীকার করতে রাজি নন তিনি এবং এরমোসোর ঘাড়েই সব দায় চাপাতে চান, ‘সে (এরমোসো) জানে যে সে মিথ্যা বলছে। আমি জানি এবং আমার মেয়েরাও জানে। ওরা জেনিকে বলতে শুনেছে “আমাকে বিরক্ত করবেন না, উনি একজন বন্ধু, এ নিয়ে কথাবার্তা যন্ত্রণা লাগছে, এটা দুজন বন্ধুর মধ্যকার ঘটনা,” আমার মেয়েরাও এটা শুনেছে।’ 

রুবিয়ালেসের দাবি, আইনের চোখে তিনি নিরপরাধ, ‘আমি অনেক বিচারকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সবাই বলেছে এখানে তারা কোনো অপরাধ খুঁজে পাননি। আমার মনে হয় না, কেউ বিশ্বাস করে, যা হয়েছে তা যৌন হয়রানি। বর্তমানে মিডিয়ার চাপ ও রাজনৈতিক চাপে ভিন্নমতের কিছু বলতে হলে আপনাকে অনেক সাহসী হতে হয়।’

একদিন সব খুলে বলবেন বলেও জানিয়েছেন রুবিয়ালেস, ‘আমি যখন বিস্তারিতভাবে আমার গল্পটা বলতে চাইব, তখন অনেক বিস্ময়কর কিছুই জানবেন, এবং আমি সবকিছু প্রমাণসহ বলব।’