ফিলিস্তিনের গাজায় শিশুসহ গণহত্যার প্রতিবাদে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন তারকাকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তবে অবস্থান জানাতে গিয়ে অনেকে বিপদেও পড়েছেন। আলজেরিয়ার ইউসেফ আতালকে স্থগিত জেলের শাস্তিও দিয়েছে ফ্রান্সের আদালত।
এমন সংবেদনশীল বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু শেয়ার করতে একটু ভুলের পরিণাম কী হতে পারে, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারও।
সম্প্রতি টুইটারে ইসরায়েল ফুটবল নিষিদ্ধ করার দাবির একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন লিনেকার। কিছুক্ষণ পরেই তিনি টের পান, ভুল অর্থ বুঝে তিনি শেয়ার করেছেন। সঙ্গে সঙ্গেই ডিলিট করেন টুইট। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে এই পোস্ট শেয়ার ও মুছে ফেলার কারণে।
তো, যে টুইট শেয়ার নিয়ে এত আলোচনা, কী ছিল সেখানে। গাজায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিভিন্নভাবে ইসরায়েলকে বয়কটের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। সে হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন খেলাধুলাকে। একটি পোস্টে ফিফা, আইওসি (আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইভেন্ট থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল প্যালেস্টাইন।
এ পোস্টটি বুঝতে ভুল করেছিলেন লিনেকার। তিনি ভেবেছিলেন, ফিফা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করেছে। তিনি টুইটারে পোস্টটি শেয়ার করে বসেন। কিন্তু নিজের ভুল বুঝতে পেরে শেয়ারকৃত টুইটার পোস্টটি মুছে ফেলেন।
পোস্টটি প্রথমে যখন শেয়ার করেছিলেন, তখনই মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন লিনেকার। পরে পোস্ট মুছে ফেললেও হুমকি আসা বন্ধ হয়নি। প্রসঙ্গে বিবিসির ম্যাচ অব দ্য ডে’র প্রেজেন্টার লিনেকার বলেছেন, ‘এখানে আমি মূল ব্যাপার না। আমি এখানে ভুক্তভোগী না।’
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে মন্তব্য করলেই সবাই কেন ক্ষেপে উঠছেন, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না সাবেক বার্সেলোনা তারকা, ‘আমার পরিচিত সকলের মনে একই প্রশ্ন, “কী? কী হচ্ছে ওখানে?” কিন্তু যখনই আপনি মুখ খুলতে যাবেন, মুখ বাদ দিলাম, যখনই আমি টুইট করলাম, এটা বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে উঠল। আপনি যে পক্ষই সমর্থন করেন না কেন, আক্রমণের মাত্রা সবসময়ই ভয়াবহ।’
লিনেকার আরও বলেছেন, ‘শান্তি চাওয়াটা কীভাবে বিতর্কিত হতে পারে? এটা আমার বুঝে আসে না। হামাসের নিন্দা করলেই আপনাকে ইসলামবিদ্বেষী না। কিংবা ইসরায়েলের প্রতি নিন্দা জানানোর জন্য তো ইহুদিবিদ্বেষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এ মুহূর্তে এটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’