রোনালদোকে না ডেকে তাঁর প্রিয় শিকারকে পাঁচ গোল দিল পর্তুগাল

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রিয় প্রতিপক্ষের তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে সুইডেন। সুইডিশদের বিপক্ষে এর আগে ৭ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। এর সঙ্গে এক অ্যাসিস্ট। ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে অফে রোনালদোর সেই বিখ্যাত হ্যাটট্রিকটাও সুইডেনের বিপক্ষেই।

প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ, অথচ রোনালদোকে দলেই রাখেননি পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস। শুধু রোনালদো নন, দিয়েগো দালত, জোয়াও কানসেলো, রুবেন নেভেস ও জোয়াও ফেলিক্সদের মতো তারকাদের ছাড়াই দল ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

এত বড় বড় নাম ছাড়াও সুইডেনকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি পর্তুগালের। গতকাল রাতে প্রীতি ম্যাচে সুইডিশদের ৫-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে মার্তিনেসের শিষ্যরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে পর্তুগালের ৫৪ শতাংশের বিপরীতে ৪৬ শতাংশ সময় বল ছিল সুইডেনের পায়ে। বার্নাদো সিলভা, ব্রুনো ফের্নান্দেসদের সঙ্গে শট নেওয়ায়ও পাল্লা দিয়েছে তারা- ১৩ শটের বিপরীতে ১৩টি শট নিয়েছে সুইডেনও।

কিন্তু মূল নিয়ামক যেটা- সেই গোলে এগিয়ে পর্তুগাল। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ২০১৬ ইউরো জয়ীরা।

পর্তুগালের ঘরের মাঠ ডম আফোনসো হেনরিক স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাচের ২৩ মিনিটে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন রাফায়েল লিয়াও। ম্যানসিটি তারকা সিলভার শট পোস্টে লেগে ফেরত এলে ফিরতি শটে গোল পান এসি মিলানের ২৪ বছর বয়সী লেফট উইংগার লিয়াও।

৯ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যাথিউস নুনিয়েস। চার সুইডিশ ডিফেন্ডারকে ঘোল খাইয়ে গোল করেন ম্যানসিটির ২৫ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ করেন ফের্নান্দেস। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন ব্রুমা। এ গোলেও বড় অবদান ফের্নান্দেসের। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলের জোগান দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার।

এক মিনিট পরে ব্যবধান কমান ভিক্টর গিওকেরেস। তিন মিনিট না যেতেই আবার সুইডেনের জালে বড় জড়ান গনসালো রামোস। সাবেক বার্সার লেফটব্যাক নেলসন সেমেদোর পাস থেকে পর্তুগালের পঞ্চম গোল এনে দেন পিএসজির ২২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রামোস। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরেকটি গোল ফিরিয়েছে সুইডেন। সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেছেন গুসতাফ নিলসন।

সাম্প্রতিক সময়ে উড়তে থাকা পর্তুগাল এ নিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের দেখা পেল। এবারের ইউরোতে বাছাইপর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে মূল পর্ব নিশ্চিত করা একমাত্র দল পর্তুগাল।