কাতার বিশ্বকাপে মরোক্কোর বিপক্ষের হেরে বিশ্বকাপ থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কান্না ভেজা বদায় নিশ্চয়ই মনে আছে সমর্থকদের। পর্তুগিজদের স্বপ্নভাঙা সে ম্যাচের পর ডাগ আউট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ফার্নান্দো সান্তোসকে। একইসঙ্গে যেন দুঃসময়ও বিদায় নিয়েছিল ২০১৬ ইউরো জয়ীদের।
মরোক্কো ম্যাচের পর টানা ১১ ম্যাচ জিতে রীতিমতো উড়াছিল পর্তুগাল। নতুন কোচ রবের্তো মার্তিনেসও দলটাকে গুছিয়ে এনেছিলেন। যার প্রমাণ আগের ম্যাচে দলের সবচেয়ে বড় তারকা রোনালদোকে ছাড়াই সুইডেনকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল পর্তুগিজরা।
এক ম্যাচের বিশ্রাম শেষে গতকাল মাঠে ফিরেছেন রোনালদো। স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে তাই বড় জয়ের আশা ছিল পর্তুগিজ সমর্থকের। কিন্তু হলো উল্টোটা। রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে পর্তুগাল ম্যাচটা হেরে গেছে ২-০ ব্যবধানে। এতে টানা জয়ের দৌড় ১১ ম্যাচেই থামল পর্তুগালের।
গতকাল লিয়ুবলিয়ানাতে প্রথমার্ধটা তুলনামূলক ম্যাড়মেড়েই কেটেছে। পর্তুগাল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিলেও প্রথমার্ধে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রোনালদো-ফেলিক্স-ওতাভিওরা। অন্যদিকে স্লোভেনিয়াও বলার মতো তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি শুরুতে। গোলহীন অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে বড় বাঁকবদল। দুই দলই আক্রমণের হার বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও রোনালদো তেমন সুবিধা আদায় করতে পারেনি। গোল মুখে গিয়েই যেন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন পর্তুগালের সবাই। অন্যদিকে বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও গোলমুখে তৎপর ছিল স্লোভেনিয়া। ম্যাচে ১০ শটের মাত্র ২টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিলেন রোনালদোরা, অন্যদিকে স্লোভেনিয়া ৮ শটের চারটিই রেখেছিল গোল বরাবর।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটে পর্তুগিজ সমর্থকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছিলেন বেঞ্জামিন সেসকো। কিন্তু যে যাত্রায় পোর্তো গোলকিপার দিয়েগো কস্তার বিশ্বস্ত হাতে রক্ষা পায় মার্তিনেসের শিষ্যরা। ৫ মিনিট পর সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকার শট চলে যায় পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। ২ মিনিট পরে হেড লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন গনসালো ইনাসিও। ৬৯ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন দিয়েগো দালত।
রোনালদোরা গোল মহড়া দিলেও সুযোগ হাতছাড়া করেনি স্লোভেনিয়া। ম্যাচের ৭২ মিনিটে রোনালদোর পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নীচু শটে গোল করে স্লোভেনিয়াকে এগিয়ে দেন সেরিন।
এরপর ম্যাচে ফিরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে ৮০ মিনিটে আবারও গোল হজম করে মার্তিনেসের শিষ্যরা। পিটার স্টোয়ানোভিচের সঙ্গে ওয়ান খেলে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোড়ালো শটে ম্যাচের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলসনিক।