ঘটনাটা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার, সৌদি সুপার কাপের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময়ে। ম্যাচে করিম বেনজেমার ক্লাব আল-ইত্তিহাদকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে নেইমারের ক্লাব আল হিলাল। পুরস্কার বিতরণের সময়ে এক উত্তেজিত দর্শক চাবুক মেরে বসেন আল ইত্তিহাদের মরোক্কান স্ট্রাইকার আবদেররাজ্জাক হামদাল্লাহর গায়ে।
গত কয়েকদিন এ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। সমালোচনা হয়েছে। হওয়ারই কথা, রোনালদো-বেনজেমা-নেইমারদের মতো খেলোয়াড় যে লিগে খেলছেন, সেখানকার কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে আঘাত-অপমান! এ নিয়ে খেপেছেন সৌদি আরবের ফুটবলসংশ্লিষ্টরা, নিয়ম-কানুনে আরও কড়াকড়ি আনার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেদিন ম্যাচের পর মাঠের পাশের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক দর্শক রেইলিংয়ের ওপর দিয়ে উঠে গিয়ে হামদাল্লাহকে চাবুক দিয়ে আঘাত করছেন! হামদাল্লাহর সঙ্গে ওই দর্শকের কথা কাটাকাটি অবশ্য তার কিছুক্ষণ আগ থেকেই চলছিল, যার এক পর্যায়ে হামদাল্লাহ ওই দর্শকের গায়ের দিকে পানি ছুঁড়ে মারেন। দর্শক জবাব দেন চাবুকে!
কিন্তু চাইলেই কোনো দর্শক মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়কে এভাবে আঘাত করবেন, এটা তো মানা যায় না! সৌদি লিগেরই সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এতে। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাই খেপেছে। সৌদি আরবের ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ) ও দেশটির ফুটবলারদের অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতিতে লিখেছে, ‘এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ও ফিফার অন্য যেকোনো সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মতো, এসএএফএফের কাছেও সবার আগে গুরুত্ব পাবে যারা খেলাটি দেখতে ও খেলতে ভালোবাসেন, সবার বিনোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
ঘটনাটাকে বিচ্ছিন্ন বুঝিয়ে বিবৃতিতে লেখা, ‘সৌদি আরবে ফুটবল পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করার ব্যাপার এবং সৌভাগ্যবশত দর্শকের এমন বিরূপ আচরণ এখানে একেবারেই বিরল ঘটনা। সে কারণেই এই কথিত সমর্থকের আচরণ সৌদি ফুটবলের সবকিছুর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এই ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।’
নিন্দা জানিয়ে ক্ষান্ত থাকলেই তো হয় না, ব্যবস্থাও নিতে হবে। সৌদি ফেডারেশন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাই দিয়েছে। বিবৃতিতে লিখেছে, ‘দর্শকের আচরণবিধির দিকটা নিয়ে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ হবে। বিশ্লেষণের পর আধুনিক সব নিয়মকানুন কাজে লাগানো হবে যাতে এরকম ঘটনার ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়।’