রোনালদোর শেষটা সুন্দর করতে পর্তুগাল কতটা প্রস্তুত?

'রোনালদো এখানে আছে ওর যোগ্যতার বলে' - উত্তরটা দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস।

সৌদি আরবের লিগে খেলা একজন, যাঁর বয়স হয়ে গেছে ৩৯ - শুধু নামটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো না হলে ইউরোর পর্তুগাল দলে তাঁর জায়গা হয় কি না, কদিন ধরে আওয়াজ পেতে থাকা প্রশ্নটার যথাযথ উত্তর বটে। কিন্তু এই যে উত্তরটা দিতে হলো, এটাই সম্ভবত বোঝায়, এই ৩৯ বছর বয়সে এসে রোনালদোকে খুব কঠিন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ক্লাব ফুটবলে তিনি সর্বজয়ী রাজা, জাতীয় দলেও পর্তুগালকে প্রথম ও সর্বশেষ কোনো বড় শিরোপা এনে দেওয়া মহানায়ক বনে গেছেন ২০১৬ ইউরোতে। তবু বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আট বছরের পরের ইউরোতে যখন নামতে যাচ্ছেন, রোনালদোর চ্যালেঞ্জ নিজেকে প্রমাণের। তিনি কী করতে পারেন সেটা প্রমাণের নয় - সে প্রশ্ন কেউ আর করলে প্রশ্নকর্তার ফুটবলজ্ঞানই প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। রোনালদোর এবারের চ্যালেঞ্জ, তিনি যা করে এসেছেন তা যে এখনো করতে পারেন তা প্রমাণের।

এমনিতে রোনালদো আর রেকর্ড তো সমার্থকই হয়ে গেছে, এবার মাঠে নামলেই কয়েকটি রেকর্ড গড়বেন রোনালদো - সবচেয়ে বেশি রেকর্ড ছয়টি ভিন্ন ইউরোতে খেলা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে (২৫) খেলা..। ইউরোতে সবচেয়ে বেশি গোল (১৪) তো তাঁরই, আর একটা গোল পেলে ইউরোর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতাও বনে যাবেন। কিন্তু এসব রেকর্ড তো গিনেজ বুকের জন্য ঠিক আছে, এসব দিয়ে আর কজন রোনালদোকে আলাদা করে মনে রাখতে যাবেন!

রোনালদোকে মনে রাখার মতো কিছু করতে হলে তো ওই একটা কাজই করতে হবে - নিজের অপরিহার্যতার প্রমাণ দেওয়া, তাঁকে নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়া। আর জবাব দেওয়ার মোক্ষম উপায় একটাই, যা রোনালদো এত বছর করে আসার কারণেই তিনি সময় ছাপিয়ে ইতিহাসেরই সেরাদের একজন - গোল করে দলকে জেতানো।

বয়স তাঁকে পরের বিশ্বকাপে খেলতে হয়তো দেবে না। গত বিশ্বকাপেই তো, নকআউট পর্বে বেঞ্চে অবনমিত রোনালদো কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিদায়ের পর যখন ড্রেসিংরুমের আলো-আঁধারিতে হারিয়ে গিয়েছিলেন, শেষটা দেখে ফেলেছিলেন সবাই। সেখান থেকে আবার ফিরেছেন, হয়তো রোনালদো বলেই ফিরতে পেরেছেন। জাতীয় দলে সর্বশেষ মেজর টুর্নামেন্টে রোনালদোও যে শেষটা সুন্দর করার অদম্য প্রেরণায় ঝাঁপাবেন, তা নিয়ে সংশয় থাকলে আপনি রোনালদোকে চেনেননি।

রোনালদোকে - পর্তুগালকেও - দ্বিতীয় ইউরো জেতানোর মতো দল পর্তুগালের আছে। একটু কমই বলা হলো, পর্তুগালের যেমন প্রতিভায় ঠাসা দল আছে, এমন দলের স্বপ্ন বিশ্বের প্রায় সব দেশই দেখে। কিন্তু রোনালদোর সঙ্গে তাঁরা তাল মেলাতে পারবেন কি না থেকে গত বছর দুয়েকে 'রোনালদো বাকিদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন কি না' হয়ে ওঠা প্রশ্নটার উত্তরেই হয়তো লুকিয়ে পর্তুগালের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ব্যবধান। 


গ্রুপসঙ্গী
চেক প্রজাতন্ত্রের র‍্যাঙ্কিং ৩৬, তুরস্ক ৪০ আর জর্জিয়া ৭৫। এতটুকুই বলে দেয়, খুব বেশি খারাপ না খেললে ইউরোর গ্রুপ পর্ব আর ইউরোর বাছাইপর্বের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য মনে হবে না রোনালদোদের। গ্রুপ সেরা তো বটেই, অনেক বেশি গোল করে আর অনেক কম গোল খেয়েই গ্রুপ পর্ব পেরোবে পর্তুগাল – এটাই প্রত্যাশিত।

সামনের পথ
গ্রুপে সেরা হতে না পারার দৃশ্যত কোনো কারণ নেই রোনালদোদের। সে ক্ষেত্রে সেমিফাইনাল পর্যন্ত রাস্তাটা সহজই পর্তুগালের জন্য। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া বা সুইজারল্যান্ডের মতো কোনো দল। সেখানে জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে সামনে পড়তে পারে নেদারল্যান্ডস। সে বাধাও পেরিয়ে গেলে সেমিফাইনালে জার্মানি বা স্পেনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা। আর ফাইনালে উঠে গেলে? ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড হয়তো থাকবে রোনালদোদের অপেক্ষায়।

সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগালের প্রতিভার ভার এত বেশি যে, কোচ রবের্তো মার্তিনেসকে একাদশ বাছাই করতে ঘেমে নেয়ে উঠতে হতে পারে। কাকে ছেড়ে কাকে খেলাবেন? তবে প্রতিভার কমতি না থাকলেও ‘প্রোফাইল’-এ একজন অন্যজনের সঙ্গে যায়, এমন একাদশ সাজানো কঠিন। রোনালদোকে মার্তিনেস যে তাঁর মূল গোলশিকারি মানেন, সেটা এখন পর্যন্ত মার্তিনেসের অধীনে পর্তুগালের ম্যাচগুলোতে বোঝা গেছে। যে ১২ ম্যাচ পর্তুগাল খেলেছে মার্তিনেসের অধীনে, তার ১০টিতেই রোনালদো শুরু থেকেই খেলেছেন। বাকি দুটির একটিতে খেলতে পারেননি নিষেধাজ্ঞার কারণে, অন্যটিতে রোনালদোর ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে’র জন্য তাঁকে বিশ্রামে রেখেছিলেন মার্তিনেস।

রোনালদোকে সামনে রাখার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি তাঁকে কেন্দ্র করে দল গঠনের ঝক্কিও কম নয়। ঝক্কিটা গত কয়েক বছরে আরও বেড়েছে, কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দলের আক্রমণের ‘বিল্ড আপে’ রোনালদোর উপস্থিতি দিনকে দিন কমছে। সে ক্ষেত্রে মাঝমাঠ ও দুই উইংয়ের প্রোফাইল যথাযথ হওয়া আবশ্যক হয়ে ওঠে।

মার্তিনেস আপাতত সমাধান হিসেবে লেফট উইংয়ে রাফায়েল লিয়াও আর রাইট উইংয়ে বের্নার্দো সিলভাকেই ভাবছেন। মাঝমাঠে পর্তুগালের প্রতিভার অভাব নেই, এর মধ্যে তিনজনকে বেছে নেওয়া কঠিন। ব্রুনো ফের্নান্দেসকে তো রাখতেই হবে, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে জোয়াও পালিনিয়াও নিশ্চিত। বাকি জায়গাটি নিয়েই যত ঝামেলা। সামনে ব্রুনো আর  তাঁরও সামনে সিলভা থাকায় ‘বল ক্যারিয়ার’-এর খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে না পর্তুগালের, তাদের চাই রক্ষণে পালিনিয়াকে সাহায্য করার পাশাপাশি সিলভা-ব্রুনোদের কাছে বল পৌঁছে দিতে পারার মতো কাউকে। মার্তিনেস সমাধান হিসেবে পিএসজির ভিতিনিয়াকেই রাখেন। তবে বেনফিকায় আলো ছড়ানো জোয়াও নেভেসকেও নজরে রাখতে হবে। ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এখনো অনভিজ্ঞ, তবে দরকারে তাঁকে নামিয়েও দিতে পারেন মার্তিনেস।

রক্ষণে লেফটব্যাকে কাকে খেলাবেন মার্তিনেস, সেটাই যা সংশয়ের ব্যাপার। গোলপোস্টে কস্তা, দুই সেন্টারব্যাক পেপে ও দিয়াস – এতটুকু সম্ভবত নিশ্চিত। তবে পেপের বয়স চিন্তা করে তাঁকে সব ম্যাচে না খেলালে বিকল্প হিসেবে দিয়াসের পাশে গনসালো ইনাসিও তো তৈরি হয়েই আছেন। রাইটব্যাকে কে খেলবেন, সেটি নির্ভর করবে লেফটব্যাকের সমাধানের ওপর। জোয়াও কানসেলো লেফটব্যাকে খেললে রাইটব্যাকে দিয়োগো দালোত, আর নুনো মেন্দেস খেললে সে ক্ষেত্রে কানসেলোকেই রাইটব্যাক হিসেবে নামাতে পারেন মার্তিনেস।

ফর্ম
পর্তুগালের ফর্ম বিচার করতে যাওয়া এক ঝামেলা বটে। বাছাইপর্বে ইতিহাস গড়েছে পর্তুগাল, দশ ম্যাচের সবগুলোই জিতেছে, সে পথে গোল করেছে রেকর্ড ৩৬টি, খেয়েছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ২টি। বাছাইপর্বের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শট, সবচেয়ে বেশি শট অন টার্গেট, বিগ চান্স তৈরি করা…সেসব তো আছেই! কিন্তু এর সঙ্গে যদি বাড়তি তথ্য হিসেবে প্রতিপক্ষের মান যোগ করা হয়, তখনই ফর্ম নিয়ে উৎসাহে ভাটা পড়ে। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে স্লোভাকিয়া, তৃতীয় লুক্সেমবার্গ, এর বাইরে ছিল আইসল্যান্ড, বসনিয়া আর লিখটেনস্টাইন – এতটুকুই যা বলার বলে। তবে এই মাসে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেছে।

কেন শিরোপা জিততে পারে
শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিবেচনায় নিলে পর্তুগালকে রাখতে হবে ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের সঙ্গে একই সারিতে। কী রক্ষণ, কী আক্রমণ, কী মাঝমাঠ - পর্তুগালের দ্বিতীয় দলও অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মতো। আর বয়স হয়ে গেলেও রোনালদো নামটার একটা ভার তো আছে!

কেন জিতবে না
বিশ্বকাপের পর যখন ফের্নান্দো সান্তোসকে বদলে মার্তিনেসকে কোচ নিয়োগ দেয় পর্তুগাল, খুব বেশি মানুষ যে একেবারে উচ্ছ্বাসে ভেসে গেছেন - এমন নয়। একে তো মার্তিনেসকে নিয়োগ দেওয়ার আগে জোসে মরিনিওর পর্তুগালের কোচ হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, রোমার প্রকল্প নিয়ে সে সময়ে উৎসাহী মরিনিও তখন দায়িত্বটা নেননি। তারওপর বেলজিয়ামে এদেন আজা-দে ব্রুইনা-কোর্তোয়াদের সোনালি প্রজন্মকে নিয়ে একের পর এক বড় টুর্নামেন্টের কোনোটিতে শিরোপা তো পরের কথা, ফাইনালেই যেতে না পারা, ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়া মার্তিনেসের ব্যর্থতা তাঁকে নিয়ে সংশয় বাড়িয়ে রেখেছে।

মার্তিনেসের অধীনে বড় দলের সামনে এখনো সেভাবে পরীক্ষায় পড়তে হয়নি পর্তুগালকে। যা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেই পড়েছিল, সে ম্যাচে হেরেছে। জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো দলকে টেক্কা দেওয়ার মতো খেলোয়াড় থাকলেও কৌশলের জোর পর্তুগালের থাকবে কি না, সেটা বড় প্রশ্ন।

কোন রোনালদোকে সামলাতে হবে মার্তিনেসকে, রোনালদোকে ম্যাচের কোন সময়ে কীভাবে কাজে লাগাবেন বা রোনালদো ভালো খেলতে না পারলে তাঁকে উঠিয়ে নেওয়ার মতো সাহস মার্তিনেসের আছে কি না, পর্তুগালের ভালো খেলার উত্তর হয়তো সেখানে লুকিয়ে।

রোনালদো – সমাধান না সমস্যা?
বয়সের কারণে গতি হারিয়েছেন - সেটা স্বাভাবিকই। তবে রোনালদোর 'ইগো'ও তাঁকে নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার পথে পর্তুগিজদের বাধা দেবে। সেই ইউভেন্তুসে থাকার সময় থেকেই রোনালদোকে নিয়ে মাঝেমধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, দলের কৌশলের অনুশীলনের সময়গুলোতে তিনি থাকতে চান না।

তাছাড়া সৌদি আরবের লিগে যতই গোলের হাফ-সেঞ্চুরি করুন রোনালদো, সৌদি আরবের লিগ আর ইউরোর মূল পর্বে ততটুকুই ব্যবধান যতটুকু উত্তর আর দক্ষিণ মেরুতে। বাছাইপর্বে অপেক্ষাকৃত ছোট দলের বিপক্ষে ১০ গোল করেছেন রোনালদো, বাছাইপর্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে জার্মানি, ফ্রান্সের মতো দলের কৌশল আর তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো জোর তাঁর ৩৯ বছর বয়সী পা জোড়ায় আছে কি না, সে সংশয় থাকছেই।

ট্যাকটিকসে খুঁত
মার্তিনেসের অধীনে পর্তুগাল এখন পর্যন্ত ভালো খেলেছে। তবে সেখানে পাদটীকা হয়ে বারেবারে প্রতিপক্ষের মানের প্রশ্ন চলে আসে। পর্তুগালের কোচ হিসেবে মার্তিনেস কতটা মানানসই, সে সংশয় তাই যায়নি।

মানানসই কি না, সে প্রশ্ন আসছে মার্তিনেসের কোচিং দর্শন আর পর্তুগালের খেলোয়াড়দের শক্তির পার্থক্যের কারণে। মার্তিনেস মূলত পজেশনাল ফুটবল খেলান, ফুটবলের পরিভাষায় বলতে গেলে হরাইজন্টাল ফুটবল। পর্তুগালের খেলোয়াড়দের দক্ষতা যুগ যুগ ধরেই মূলত ভার্টিক্যাল ফুটবল দাবি করে। বল পেয়ে দ্রুত কয়েকটি পাসে উঠে যাওয়া, ওয়ান-টু টাচে আক্রমণ গড়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে চলে যাওয়া..এমন ফুটবল মার্তিনেসের দলে খুব কমই চোখে পড়ে।

পর্তুগালের বাঁ দিকের ঝামেলাটা কীভাবে সমাধান করেন, সেটাও দেখার। লেফটব্যাকে কানসেলো নামলে মূলত দুই ফুলব্যাককে ইনভার্টেড রেখে পালিনিয়ার দুই পাশে নিয়ে যান মার্তিনেস। ২-৩-৫ ছকের আক্রমণ আর কী! এতে ব্রুনো-বের্নার্দো-ভিতিনিয়াদের মাঝমাঠের সামনে আরও স্বাধীন হওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে এই কৌশল ছোট দলের বিপক্ষে কার্যকর হতে পারে, কারণ ছোট দলগুলো নিজেদের বক্সের সামনেই জমাট বেঁধে থাকে। কিন্তু এই কৌশলে রক্ষণের দুই পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে যায় অনেক। বল পায়ে সমান দক্ষ কোনো বড় দল কিংবা যে দলের উইংয়ে গতিশীল এবং ওয়ান-অন-ওয়ানে দক্ষ খেলোয়াড় থাকবে, তাদের সামনে পর্তুগাল ভুগতে পারে।

আক্রমণে ডানদিক সামলানো নিয়েও ঝামেলায় পড়তে পারে পর্তুগাল। সিলভা উইং থেকে ভেতরের দিকে হাফ-স্পেইসে চলে যান, সেটি কাভার দিতে ব্রুনোকে বেশিরভাগ সময়েই ডানদিকের হাফ স্পেইসে বা আরও ডানে যেতে হয়। সেখান থেকে ব্রুনোর দারুণ ক্রস বা পাস দেওয়ার সামর্থ আছে ঠিকই, তবে এক্ষেত্রে মাঝমাঠ থেকে 'থার্ড ম্যান রান' নিয়ে ভেতরে ঢোকার লোকের অভাবে ভুগতে পারে পর্তুগাল।