১ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট নিয়েই কোপা আমেরিকার সেরা একাদশে মেসি!

কোপা আমেরিকা কেমন কেটেছে লিওনেল মেসির? আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জিতলেও বেশিরভাগ আর্জেন্টাইন সমর্থকও হয়তো এ প্রশ্নের উত্তরে বলবেন, মেসির টুর্নামেন্টটা অত ভালো কাটেনি। অন্তত মেসি ‘মেসি’ হয়ে উঠতে পারেননি – এতটুকু তো বলাই যায়!

কিন্তু কোপা আমেরিকার আয়োজকেরা আজ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট নিয়েই মেসি ঢুকে গেছেন একাদশে!

শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনার পাঁচজন, রানার্সআপ কলম্বিয়ার দুজন, আর ব্রাজিল-উরুগুয়ে-কানাডা-ইকুয়েডরের একজন করে – এই হলো কোপা আমেরিকার ‘টিম অব দ্য টুর্নামেন্টে’র গঠন। সেখানে সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিতর্ক মেসিকে ঘিরেই।

বিতর্ক কেন, সে আলোচনার আগে একাদশটার বর্ণনা দেখুন - গোলপোস্টে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। রাইটব্যাক কানাডার অ্যালিস্টেয়ার জনসন, দুই সেন্টারব্যাক – আর্জেন্টিনার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কলম্বিয়ার দাভিনসন সানচেস, লেফটব্যাক ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপি।

৪-৩-৩ ছকে মাঝমাঠে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে উরুগুয়ের মানুয়েল উগার্তেকে। তাঁর দুই পাশে ‘রানার’ হিসেবে আছেন আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দে পল, আর প্লেমেকার হিসেবে কলম্বিয়ার জার্সিতে নিজেকে আবার চেনানো হামেস রদ্রিগেস।

আক্রমণে বাঁ পাশের উইংয়ে রাখা হয়েছে ব্রাজিলের রাফিনিয়াকে, যদিও তিনি টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের হয়ে রাইট উইংয়েই খেলেছেন। ডান উইংয়ে আছেন মেসি। আর স্ট্রাইকার পজিশনে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়া গোলটি করা ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লওতারো মার্তিনেস ছাড়া আর কে থাকবেন!

এর মধ্যে মেসিকে নিয়েই বেশি প্রশ্ন হয়তো মেসির প্রতি উঁচু প্রত্যাশার কারণেই। টুর্নামেন্টে চোটের পর চোটে ভুগেছেন ৩৭ বছর বয়সী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক – গ্রুপে শেষ ম্যাচটা খেলেননি, কোয়ার্টার ফাইনালে চোট কাটিয়ে খেললেও ছন্দে ছিলেন না। আর ফাইনালে তো ঘণ্টাখানেক খেলার পর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হওয়ার পর কেঁদে বুকই ভাসালেন।

এর মধ্যে মেসি একমাত্র গোলটা করেছেন সেমিফাইনালে, যদিও সে গোল তাঁর দাবি করতে মেসিরই বাঁধবে। এনসো ফের্নান্দেসের শট গোলমুখে যাওয়ার পথে মেসির পায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢোকে। আর অ্যাসিস্ট? প্রথম ম্যাচে সেটি করেছিলেন তিনি। তবে এর বাইরে প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য আর্জেন্টিনার জয়ের পথে গোলগুলোতে ঠিক অ্যাসিস্ট তাঁর না হলেও আক্রমণটা তাঁরই পায়ে গড়ে উঠেছে।

খুব একটা ভালো না খেললেও সর্বোচ্চ সুযোগ (বিগ চান্স) তৈরি (৭), তৃতীয় সর্বোচ্চ ড্রিবলিং (১২), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত অ্যাসিস্ট…এসবই হয়তো মেসিকে একাদশে জায়গা এনে দিয়েছে।