কাজী সালাউদ্দিনের দাবি, ‘আলট্রাস’রা সাইফ স্পোর্টিংয়ের কর্মচারী

বাংলাদেশ ফুটবলের সমর্থকগোষ্ঠী ‘বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাস’ বাফুফে সভাপতি পদ থেকে কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করেছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের ফুটবল-অঙ্গন সরগরম। বাফুফে সভাপতিও এর আগে একবার ‘আলট্রাস কে’ বলে প্রশ্ন করেছিলেন।

আজ ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের সঙ্গে আলাপেও আলট্রাসের এই দাবি নিয়ে কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি। বিভিন্ন প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলাপের এক পর্যায়ে আলট্রাসের এই সমর্থকগোষ্ঠীকে ২০২২ সালে ফুটবল থেকে হঠাৎই নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংয়ের দিকে আঙুল তুলেছেন কাজী সালাউদ্দিন। তাঁর দাবি, আলট্রাসরা সাইফ স্পোর্টিংয়েরই কর্মচারী!  

দীর্ঘ আলাপে চলমান আন্দোলন, তাঁর পদত্যাগ ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলাপে কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করলে বাংলাদেশের ফুটবলই ফিফার খড়গের মুখে পড়তে পারে। কেউ তাঁর পদত্যাগ চাইতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনই বদলের একমাত্র পথ, ফিফার কাছেও একমাত্র স্বীকৃত পথ সেটিই। এরপর আলট্রাসকে বদল চাইলে নির্বাচনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এরপর তাঁর দীর্ঘ ১৬ বছরের সভাপতিত্বে সাফল্য ও ব্যর্থতার আলোচনাও হয়েছে। সেখানে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বয়সভিত্তিক ফুটবল ও নারী ফুটবলে সব ক্লাবকে তিনি আনতে পারেননি। তাছাড়া দারুণ পেশাদারভাবে চলতে থাকা সাঈফ স্পোর্টিং ক্লাবও ২০২২ সালের আগস্টে হঠাৎ জানিয়ে দেয়, তারা আর ফুটবল ক্লাব চালাবে না। একটা পেশাদার ক্লাবের আগমণের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন থাকলেও এভাবে ক্লাবগুলোর ইচ্ছেমতো যাওয়ার ক্ষেত্রে বাফুফে কোনো নিয়ম তৈরি করতে পারে কি না, সে নিয়েই চলছিল আলোচনা।

সে ব্যাপারে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘শোনেন, খেলতে গেলে আপনাকে লাইসেন্স করে খেলতে হবে। খেলবেন না, এটা তো আপনার ইচ্ছা। আপনি না খেললে আমি কি আমাকে জোর করতে পারি? ব্যাপারটা দুঃখজনক, কিন্তু কিছু তো করার নেই। বিশ্বে কোথাও তো দেখি না ক্লাব চলে যায়। এটা তো পলিটিক্যাল মুভ, যে আরেকজনকে আটকানো, বেইজ্জতি করা। আমার পেছনে না লেগে এটার পেছনে লাগেন যে (ক্লাবগুলো এভাবে) কেন আসে কেন যায়! যে কারণে এবার আমি বলেছি যে লাইসেন্স করতে গেলে একটা ফি ধরো, না হলে তো এরা আমাদের সঙ্গে খেলা করে! আপনি যেটা বলছেন, এটাতে তো আমার দোষ কই!’

কিন্তু ক্লাবগুলো হঠাৎ চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাফুফের দিক থেকে কোনো নীতিগত বাধা তৈরি করা হয় কি না, এ প্রশ্নে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটা সম্পর্কে তো আমি সাতবার ইন্টারভিউ দিয়েছি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এরা কী ধান্দায় আসে, কি ধান্দায় যায়। তার উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি, তার ধান্দা পূরণ হয়নি।’

এরপর আবার এ ক্ষেত্রে বাফুফের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নে বলেন, ‘এটা তো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কারণ, এরা আপনাদের এত সমর্থন পায়! এই যে আপনি তো সাইফ স্পোর্টিংকে নিয়ে কোনো প্রশ্নই করলেন না – ওরা এল কেন, গেল কেন!’

এরপর বলেছেন, ‘এই যে যত কিছু হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে, এগুলো সব সাইফের করা। এগুলো সব সাইফের সাবেক কর্মী।’ এরা বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন, প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি নিশ্চিত করেই বললেন, ‘এই যে আমার বিরুদ্ধে যে আলট্রাসরা এসেছিল। ওরা তো সাইফের কর্মচারী ছিল।’

‘এটা কি আপনি দায়িত্ব নিয়ে বলছেন?’ – প্রশ্নে অটল কাজী সালাউদ্দিনের উত্তর, ‘অবশ্যই। আমার বিশ্বাস, তারা হ্যা বলুক বা না বলুক, এটা সবাই জানে। যারা স্পোর্টসের জগতে আছে, তারা সবাই জানেন। সবাই একই কথা বলবে। আপনি হয়তো জানলেও কিছু বলবেন না। চুপ করে থাকবেন। এখন দিনক্ষণ ভালো না। কিন্তু ইটস আ নৌন ফ্যাক্টর।’

নির্বাচন ঘিরেই সাইফ স্পোর্টিং এমন কিছু করছে বলে দাবি বাফুফে সভাপতির, ‘এটা সবাই বলছে, ওরা সাইফের সমর্থকগোষ্ঠী। এখন ইলেকশন আসতেছে তো। আপনি বুঝতেছেন না, ওরা বলতেছে কি? আমাকে ইলেকশন না করতে বলতেছে। মানেটা কী? আপনি বুঝতেছেন কথাটা? ওরা বলছে যে আমি যেন ইলেকশন না করি। আমি ইলেকশন করলে আপনি আমাকে পিটাবেন। মানেটা কী? এটা আপনি গোটা পৃথিবীতে কোথাও শুনেছেন?’

প্রসঙ্গত, ২০২০ বাফুফে নির্বাচনে সাইফ স্পোর্টিং ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মালিকানায় জড়িত তরফদার রুহুল আমিন প্রথমে সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘কারণ তখন আমরা জেনেছি বর্তমান সভাপতি আর নির্বাচন করবেন না। পরে জানতে পারলাম বর্তমান সভাপতি যিনি আছেন তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও তিনি আগে বলেছিলেন নির্বাচন করবেন না। তখন আমরা দেখলাম ফুটবলে তথা ক্রীড়াঙ্গনে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করব না।’