শৈশবের ক্লাব সান্তোসে গিয়ে প্রথম তিন ম্যাচ গোলহীন থাকার পর, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আগুয়া সান্তার বিপক্ষে গোলের দেখা পেয়েছিলেন নেইমার। সেটা ছিল প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ৫০২ দিন পর নেইমারের গোল।
কিন্তু ওই গোলে কি খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার? গোলটা যে ছিল পেনাল্টিতে!
এরপর নরয়েস্তের বিপক্ষে ম্যাচে আবার গোলহীন থাকেন নেইমার। তাতে দৃষ্টিনন্দন নেইমার-গোল দেখার অপেক্ষা বাড়ছিল। তবে সে অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হতে দেননি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। মনের ক্ষুধা মেটাতে বেছে নেন ইন্তারনশিওনাল দে লিমেইরাকে।
সাও পাওলোর পেশাদার লিগ ক্যাম্পেনাতো পাওলিস্তাতে লিমেইরার বিপক্ষে সরাসরি কর্নার থেকে গোল করেছেন নেইমার। দর্শনীয় এক গোল করেই থেমে থাকেননি ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা, সঙ্গে আরও দুটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। নেইমারের এক গোল আর দুই অ্যাসিস্টে ভর করে লিমেইরাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সান্তোস।
লিমেইরার ঘরের মাঠ স্তাদিও মেজর হোসে লেভি সবরিনিওতে ম্যাচের ৯ম মিনিটে নেইমারের কর্নার থেকে হেডে গোল করে সান্তোসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিকুইনিও সোয়ারেস।
সান্তোস অবশ্য আরও বেশ কয়েকবার গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। নেইমার দারুণভাবে বল বানিয়ে দিলেও সেগুলো গোলে পরিণত পারছিলেন না কেউ। এর মধ্যে ২৭ মিনিটে কর্নার পায় সান্তোস। কর্নার নিতে গেলে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো দিতে থাকেন লিমেইরার সমর্থকেরা। জবাবটা অবশ্য দারুণভাবে দিয়েছেন নেইমার।
শুরুতে কানের কাছে হাত নিয়ে ইশারা দিতে থাকেন, ‘আরও জোরে দুয়ো দাও, শুনতে পাচ্ছি না।’ সেখানেই থেমে থাকেননি নেইমার, সেই কর্নার থেকে সরাসরি গোল করে মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জন।
ব্রাজিলিয়ান তারকার নেওয়া কর্নার লিমেইরার গোলকিপার ইগো গ্যাব্রিয়েল ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি। সেটা দূরের পোস্টে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। স্বাগতিক সমর্থকদের দুয়োর জবাবে এমন গোলের পর নেইমারের উদযাপনটাও হয়েছে ভিন্নরকম। তবে সেটা আবার মনে করিয়ে দিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।
গোল করেই নেইমার মাঠে সতীর্থদের দিকে না এসে যান বিজ্ঞাপন বোর্ডের কাছে। তারপর সেখানে বসে পড়েন ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে। এরপর হাতের ইশারায় যেন বলতে চাইলেন, ‘এটা কোনো ব্যাপার হলো।’ রেয়াল মাদ্রিদে থাকতে এমন উদযাপন করতেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো।
রোনালদোকে মনে করিয়ে দেওয়া উদযাপনেই থেমে থাকেননি নেইমার। ৫ মিনিট পর সোয়ারেসকে দিয়ে আরও একটি গোল করিয়েছেন নেইমার। সে গোলটাও এসেছে নেইমারের কর্নারে সোয়ারেসের হেডে।
প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া সান্তোস দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আর গোলের দেখা পায়নি। তাতেও বড় জয় থেমে থাকেনি ক্লাবটির। এ জয়ে পাওলিস্তাতে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’-র শীর্ষে সান্তোস।