এবার ফ্রি-কিকে গোল, নেইমার যেন উড়ছেন

আল হিলালে ভুলে যাওয়ার মতো দেড় মৌসুম কাটিয়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গেছেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের ক্লাবটিতে প্রথম তিন ম্যাচে গোল পাননি, মাঠে আলাদা করে নজর কাড়ার মতো কিছু করতে পারেননি - এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে সমালোচনার জবাব দিতে খুব বেশি দেরি করেননি নেইমার।

প্রত্যাবর্তনের পর চতুর্থ ম্যাচে সাও পাওলোর পেশাদার লিগ ক্যাম্পেনাতো পাওলিস্তাতে আগুয়া সান্তার বিপক্ষে এক গোল আর এক অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। সেটি ছিল পেশাদার ক্যারিয়ারে ৫০২ দিন পর নেইমারের প্রথম গোল! তবে সে গোলটা ছিল পেনাল্টিতে। এরপর এক ম্যাচ গোলহীন থাকার পর ইন্তের লিমেইরার বিপক্ষে সরাসরি কর্নার থেকেই গোল করে বসেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। অলিম্পিক গোলের পাশাপাশি ওই ম্যাচে দুই অ্যাসিস্টও করেন ৩৩ বছর বয়সী এ তারকা।

পরের ম্যাচে, অর্থাৎ আজ সোমবার আবারও গোলের দেখা পেয়েছেন নেইমার। পাওলিস্তার কোয়ার্টার ফাইনালে রেড বুল ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে আজ ২-০ ব্যবধানের জয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে সান্তোস। সান্তোসের প্রথম গোলটি এসেছে নেইমারের পা থেকে, সেটাও দারুণ এক ফ্রি কিকে। নেইমারের দৃষ্টিনন্দন গোলের পর ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হোয়াও সিমিথ। ওই গোলেও পরোক্ষ অবদান আছে নেইমারের।

পেনাল্টি দিয়ে গোলের খাতা খোলা, এরপর সরাসরি কর্নার থেকে গোল, এখন আবার ফ্রি-কিকে বল জড়ালেন জালে- নেইমার যেন রীতিমতো উড়ছেন। মাঠের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছেন নেইমার। প্রায় ১৭ মাস পর জাতীয় দলের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন তিনি!

অবশ্য এ সুসংবাদ শুনেই আজ ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাগান্তিনোর খেলোয়াড়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। নেইমারকে একাধিকবার ফাউল করেন ব্রাগান্তিনোর ফুটবলাররা। এর মাশুলও দিতে হয়েছে ক্লাবটিকে।

ম্যাচের ৮ম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে ড্রিবল করে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন নেইমার। কিন্তু বক্সের ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমারকে ফাউল করে বসেন ব্রাগান্তিনো ডিফেন্ডার পেদ্রো এনরিকে। সান্তোস যেখানে ফ্রিকিক পেয়েছে, সেখান থেকে গোল করার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু নেইমারের জন্য সেটা দুর্বোধ্য হতে পারেনি। জোরাল শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জড়ায় জালে। অবশ্য নেইমারের শট ব্রাগান্তিনোর এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে কিছুটা দিক বদলেছে।

নেইমারের ওই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সান্তোস। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ক্লাবটিকে। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে কর্নার পায় সান্তোস। নেইমারের নেওয়া কর্নারে পাঞ্চ করেছিলেন ব্রাগান্তিনোর গোলকিপার ক্লেইটন শোয়েনবার। ফিরতি বল গুলিয়ের্মো আগুস্তোর পায়ে লেগে যায় সিমিথের সামনে। সেটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে শট নেন সিমিথ। সেটা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না ব্রাগান্তিনোর গোলকিপারের। ম্যাচে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সান্তোস।

প্রত্যাবর্তনের পর এ নিয়ে সান্তোসের হয়ে ৭ ম্যাচে ৩ গোল আর ৩ অ্যাসিস্ট করলেন নেইমার। এর মধ্যে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ৪ ম্যাচে! নেইমার উড়ছেন নয়তো কী!