বার্সেলোনা গোঁফে তেল দিচ্ছিল, ওদিকে কাঁঠালের আঠা বাড়িয়ে গাছে রাখার বুদ্ধি দিয়েছিল মালী

নিকো উইলিয়ামসের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার গুঞ্জন শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বার্সা সমর্থকদের আশা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত আথলেতিক বিলবাওয়েই ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন ২২ বছর বয়সী এ লেফট উইঙ্গার।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগে যে রিলিজ ক্লজ ৬ কোটি ইউরোর আশেপাশে ছিল, সেটা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সঙ্গে বেতনটাও দ্বিগুণ হয়েছে নিকোর।

অথচ মাসখানেক ধরে বার্সা সমর্থকেরা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন, বাস্ক অঞ্চলের ক্লাব ছেড়ে কাতালুনিয়ায় যাচ্ছেন নিকো। বিশেষ করে কাতালান ক্লাবটির ম্যানেজেমেন্ট ও বার্সার স্প্যানিশ সতীর্থদের সঙ্গে নিকোর সাম্প্রতিক সখ্যতা তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছিল।

বিলবাওয়ের সঙ্গে নিকোর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে তাঁকে দলে টানার কথা ভাবছিল বার্সা। কিন্তু গত সপ্তাহে নাটকীয়ভাবে বিলবাওয়ের সঙ্গেই চুক্তি নবায়ন করেন তরুণ উইঙ্গার।

তা কী এমন ঘটনা ঘটল যে, নিকো সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন? এ বিষয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন মিগুয়েল গালান। কোচদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সংগঠন সিএনএফই-র সভাপতি অভিযোগ তুলেছেন, লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন বলেই নিকোকে দলে টানতে পারেনি বার্সা।

গালানের অভিযোগ, বার্সার গোপনীয় ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট বিলবাওয়ের কাছে ফাঁস করেছেন তেবাস। আর সেটার সদ্ব্যবহার করেছে বিলবাও। বার্সার ভঙ্গুর আর্থিক বিবরণীর চিত্র দেখিয়ে নিকোর মত বদলানোর কাজটা সেরেছে বাস্ক ক্লাবটি।

বার্সার আর্থিক দুর্দশার চিত্র অনেকটা ওপেন সিক্রেট। গত মৌসুমে দানি অলমোর নিবন্ধন নিয়ে নাটক কম হয়নি। চলতি মৌসুমে গোলকিপার হুয়ান গার্সিয়াকে কিনলেও এখনো নিবন্ধন করাতে পারেনি বার্সা। এ অবস্থায় রিলিজ ক্লজের অর্থ পরিশোধ করে কীভাবে নিকোকে দলে টানতে চায় বার্সা- এ ব্যাপারে লা লিগার কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল বিলবাও। সেই বৈঠকে বাস্ক ক্লাবটিকে বার্সার আর্থিক বিবরণী দিয়েছেন তেবাস- এমনটাই অভিযোগ গালানের।

মাসখানেক ধরে নিকোর বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন যখন বাতাসে, শেষ পর্যায়ে স্প্যানিশ কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছিল, বার্সায় যোগ দেওয়ার পরেই নিবন্ধনের লিখিত গ্যারান্টি চেয়েছিলেন নিকো। গালান জানিয়েছেন, এ অবস্থায় বিলবাওয়ের কাছে বার্সার আর্থিক বিবরণী দেখে কাতালান ক্লাবটিতে যাওয়া নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয় নিকোর মনে। এমন পরিস্থিতিতে নিকোর মন পরিবর্তনে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নেয় বিলবাও। আর এ কাজে পুরোপুরি সফল বাস্ক ক্লাবটি।

কয়েকদিন আগে বার্সার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘নিকোর বার্সায় খেলার ব্যাপারে আগ্রহ আছে।’ নিজেদের খেলোয়াড় প্রসঙ্গে বার্সা ডিরেক্টরের এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি বিলবাও। জুনের শেষ সপ্তাহে বাস্ক ক্লাবটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, এ ব্যাপারে তেবাসসহ লা লিগা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বিলবাও। ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল বিলবাওয়ের বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিলাবওয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নীতি কাঠামো নিয়ে আথলেতিক ক্লাবের অনুরোধে মাদ্রিদে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বার্সার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমাদের মূল দলের একজনকে দলে টানতে চান। তাই অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বার্সার খেলোয়াড় কেনার সক্ষমতা নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দেকোর বক্তব্যের সঙ্গে বার্সা প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তার মন্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বার্সা প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, কাতালান ক্লাবটি ১:১ নিয়মে ফিরে যেতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এই মুহূর্তে তারা ওই নিয়মের অধীনে খেলোয়াড় নিবন্ধনের অবস্থায় নেই।’

বিলবাওয়ের সঙ্গে বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে জুনে লা লিগা সভাপতি তেবাস জানিয়েছেন, নিকোর ব্যাপারে মন্তব্য থামাতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না লিগ কর্তৃপক্ষ। বরং লা লিগা যেটা করতে পারে, পুরোপুরি আর্থিক নীতি মানা ছাড়া কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধন করানো হবে না।

তেবাস বলেছিলেন, ‘নিকোকে দলে টানা নিয়ে বার্সার প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে আথলেতিক অভিযোগ করেছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ও একটা নির্দিষ্ট চুক্তিতে আছে। আমরা এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখি না। তবে আমরা আগেও যা করেছি, এখনও তাই করব। বার্সাকে নিয়ম মেনেই খেলোয়াড় স্বাক্ষর করাতে হবে। সে নিকো উইলিয়ামস হোক, (আর্লিং) হলান্ড কিংবা (লিওনেল) মেসি- যেই হোক না কেন, আমরা ওই নীতির কোনো পরিবর্তন করব না।’

বিলবাও-লা লিগা বৈঠকের সত্যতা দুপক্ষই স্বীকার করেছে। গালানের অভিযোগ অনুসারে, ওই বৈঠকেই বার্সার আর্থিক বিবরণী বিলবাওকে দিয়েছেন তেবাস। সেটা ব্যবহার করেই বার্সার গোঁফে তেল দেওয়ার পরও নিকো নামের কাঁঠালকে গাছেই রাখতে পারার কাজটা সেরেছে বিলবাও।