মানালো মার্কেসের পদত্যাগের পর থেকে খালি ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের কোচের পদ। ড্রেসিংরুম আর ডাগআউটের বসের পদটা বেশিদিন শূন্য রাখতে চায় না সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা (এআইএফএফ)। সুনীল ছেত্রীদের নতুন কোচের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল দেশটির ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
স্বাভাবিকভাবে প্রচুর আবেদন পড়ে ভারতের ছেলেদের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে। আগ্রহীদের তালিকায় ছিলেন দেশটির সাবেক ইংলিশ কোচ স্টিভেন কনস্টানটাইন, লিভারপুল তারকা হ্যারি কেওয়েল, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সাবেক ম্যানেজার স্টিভ কিন, ভারতের স্থানীয় কোচ খালিদ জামিল। এছাড়া কিবু ভিকুনা, ইলকো শাতেরিয়েদের মতো কোচও আবেদন করেছিলেন।
তবে একটি নাম দেখে এআইএফএফ বোর্ডের কর্তাদের চোখ কপালে ওঠার দশা। ভারতের কোচ হতে স্বয়ং আবেদন করেছেন সাবেক বার্সা ও স্প্যানিশ কিংবদন্তি শাভি এরনান্দেস। আবেদনকৃতদের তালিকা সংক্ষিপ্ত করার সময় নিচের দিকে শাভির নামটি দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এআইএফএফের টিম ডিরেক্টর সুব্রত পাল। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিজের ইমেইল আইডি ব্যবহার করেই আবেদনটি করেন শাভি। তবে কন্ট্যাক্ট নম্বরের ঘরটি ফাঁকা ছিল। সংবাদমাধ্যমটিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে সুব্রত পাল বলেছেন, ‘এটা সত্য যে, ওখানে শাভির নাম ছিল। এআইএফএফ বরাবর আবেদনটি করা হয়েছিল।’
শাভি আগ্রহ দেখালেও তাঁকে কোচ হিসেবে বিবেচনায় রাখতে পারছে না ভারত। সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উচ্চ আর্থিক ব্যয়ের কারণে শাবিকে চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখতে পারেনি বোর্ডের টেকনিক্যাল কমিটি।
বুধবার এক ভার্চুয়ার সভার আয়োজন করেছিল এআইএফএফ। সভায় অংশ নেওয়া বোর্ডের টেকনিক্যাল কমিটির এক সদস্য বলেছেন, ‘শাভি যতি সত্যি সত্যিই ভারতের ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হন, এবং কোচ হিসেবে কাজ করতে রাজিও হতেন, আমাদের অনেক বেশি অর্থের দরকার হতো।’
অবশ্য ভারতের ফুটবল নিয়ে আগ্রহের কথা শাভি এর আগেও প্রকাশ করেছিলেন। দ্য অ্যাথলেতিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাভি বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে ভারতীয় (সুপার) লিগের খেয়াল রাখি। কারণে সেখানে অনেক স্প্যানিশ কোচ কাজ করেন।’
শাভিকে বিবেচনায় না নিলেও তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করেছে এআইএফএফ। সেখানে জায়গা পেয়েছেন খালিদ জামিল, সাবেক কোচ স্টিভেন কনস্টানটাইন ও স্টেফান তারকোভিচ। শিগগির এ তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার কাজ সারবে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।