ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৮ ধাপ উপরে হংকং। কিন্তু মাঠের খেলায় সেটা বুঝতেই দেয়নি বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে তুলনামূলক শক্তিশালী হংকংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়েছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে, ম্যাচে বাংলাদেশই ভালো খেলেছে। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হার নিয়ে!
শুরুতে হামজার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে বাংলাদেশ। শুধু একটি নয়, পরে বাংলাদেশ আরও তিনটি বড় ভুল করেছে, আর প্রত্যেকবার গোল পেয়েছে হংকং। তবুও একটা পর্যায়ে যোগ করা সময়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল হজম করে স্বপ্নভঙ্গ হয় হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের।
হেরে গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবলারদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমর্থকেরা। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী-সামিত সোম-জায়ানদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে প্রশংসা করছেন। বাদ যাননি জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়রাও আছেন সে তালিকায়। তাঁরা হামজা-সামিতদের মাথা উঁচু রাখতে বলেছেন।
নিজের ফেসবুক পেজে লিটন দাস লিখেছেন, ‘হামজা চৌধুরী এবং পুরো দল- মাথা উঁচু রাখো শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যাওয়া আসলেই হৃদয়বিদারক। তবে তোমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছ। সামনে হবে আশা করি। তোমাদের প্রচেষ্টার জন্য গর্বিত।’
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার পর বিষণ্নমনে মাঠেই বসে পড়েন হামজা। সে সময় তারকা এ ফুটবলারের চোখে জল ছলছল করছিল। সদা হাস্যোজ্জ্বল হামজার এমন বিমর্ষ চেহারা ভীষণ অপরিচিত। হামজার সেই বসে থাকা একটি ছবি শেয়ার করে তাসকিন লিখেছেন, ‘সামনে ভালো দিন আসছে। ইতিবাচক থেকো আর মাথা উঁচু রাখো।’
একই ছবির সঙ্গে হামজার আরেকটা ছবি কোলাজ করে দিয়ে সৌম্য সরকার লিখেছেন, ‘মাঠে হয়তো হেরেছি, কিন্তু আমাদের হৃদয় জিতেছো। জ্বলতে থাকো, বাংলাদেশ।’
এক ক্ষুদে সমর্থকের কান্নার ছবি যুক্ত করে নুরুল হাসান সোহান লিখেছেন, ‘আমরা হয়তো ম্যাচটা হেরেছি। কিন্তু মনোবল ছিল অদম্য। হোমাদের জন্য গর্ব হচ্ছে, বাংলাদেশ।’
হামজার গোল উদযাপন, অন্যান্য ফুটবলারের উদযাপন, সমর্থকের কান্না- এমন বেশ কয়েকটি ছবি যুক্ত করে তাওহীদ হৃদয় লিখেছেন, ‘একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে খেলার সবটুকু উপভোগ করেছি, পুরো বাংলাদেশের সাথে শেষে এসে আমারও মন ভেঙেছে। তবে আপনাদের বিশ্বাস করি, ভালোবাসি, সমর্থন করি। গর্ব হচ্ছে আপনাদের চেষ্টা, পরিশ্রম আর উৎসর্গ দেখে। ভালোবাসা আজীবন।’
হামজাদের প্রতি বিশ্বাস আছে, সেটা জানিয়ে তানজিদ হাসান তামিম লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো বন্ধুরা। কী দারুণ একটা ম্যাচ ছিল। প্রতিটি ব্যর্থতাই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিস্বরূপ। আমাদের ছেলেরা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাইফ লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো হামজা, ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা জিতব।’ রিশাদ লিখেছেন, ‘শেষ মুহূর্তের গোলটা যেন হৃদয়ে ছুরির মতো বিঁধল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটা ছিল বুকভরা গর্বের।’