তিন গোল খেলেও আধডজন খায়নি, এটাই বার্সার কপালের জোর

লামিন ইয়ামাল নাকি এস্তেভাও- প্রতিভার বিচারে কে এগিয়ে? চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসি-বার্সেলোনা ম্যাচ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই এমন বিতর্ক কিংবা আলোচনা চলছিল ইউরোপীয়ান ফুটবলে। এ প্রশ্নের তো সরাসরি উত্তর পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রাতের পারফরম্যান্স বিবেচনায়, ইয়ামালকে বলতে গেলে অন্ধকারে ডুবিয়ে সব আলো নিজের দিকে টেনেছেন এস্তেভাও।

চেলসিতে খেলা ব্রাজিলের এই ১৮ বছর বয়সী তরুণ রাইট উইঙ্গার গতকালের ম্যাচে শুধু দুর্দান্ত পারফর্ম-ই করেননি, করেছেন নজরকাড়া গোলও। এস্তেভাওয়ের মতো দাপুটে পারফরম্যান্সে গতকাল বার্সেলোনাকে রীতিমতো খাবি খাইয়েছে চেলসি। ঘরের মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে কাতালান ক্লাবটিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে এনসো মারেসকার শিষ্যরা।

তিনটি গোল করার পাশাপাশি আরও তিনবার জালে বল জড়িয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু সে গোলগুলো বৈধতা পায়নি হ্যান্ডবল ও অফসাইডে। অন্যদিকে ম্যাচজুড়ে হাঁসফাঁস করতে থাকা বার্সার দুর্দশা আরও বাড়িয়েছেন রোনাল্ড আরাউহো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বার্সার উরুগুয়ে ফরোয়ার্ড। এতে দ্বিতীয়ার্ধেল পুরোটা সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় বার্সাকে।

গতকালের আগে দুদল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৮ সালের মার্চে। ওই ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল বার্সা। সাত বছর পর মুখোমুখি হয়ে যেন সেই হারের প্রতিশোধই নিল ইংলিশ ক্লাবটি।

গতকাল বলের দখল, পাসিং, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ- সবকিছুতেই আধিপত্য দেখিয়েছে চেলসি। অন্যদিকে বার্সা যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিল। চাপ তৈরি তো দূরের কথা, ঠিকঠাক ৩টি নিখুঁত পাস খেলতেও যেন বেগ পেতে হচ্ছিল হানসি ফ্লিকের দলকে। রক্ষণটাও নড়বড়ে ছিল কাতালানদের।

সেটার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই একবার জালে বল জড়িয়েছিলেন এনসো ফের্নান্দেস। কিন্তু চেলসির এ গোলটি বৈধতা পায়নি হ্যান্ডবলে। একটু পর অফসাইডে ফের্নান্দেসের আরও একটি গোল বাতিল হয়।

এর মাঝে ৬ষ্ঠ মিনিটে একমাত্র সুযোগটি পেয়েছিল বার্সা। তবে ফেরান তোরেস সহজ সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি।

টানা আক্রমণের মাঝে ২৭ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় চেলসি। ডানপ্রান্ত থেকে কুকুরেয়ার ক্রসে পেত্রো নেতোর শট ঠেকাতে গিয়ে গোলপাল পাকিয়ে ফেলেন বার্সার দুই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত জুলস কুন্দের পায়ে লেগে বল জড়ায় বার্সার জালে।

এর কিছুসময় আপত্তিকর আচরণের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন আরাউহো। আর ৪৪ মিনিটে কুকুরেয়াকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে প্রথমার্ধেই আত্মঘাতী গোলহজম ও লাল কার্ড দেখা তৃতীয় দল এখন বার্সেলোনা।

১০ জনে পরিণত হওয়া বার্সা দ্বিতীয়ার্ধে তো ম্যাচে ফেরা তো দূরের কথা, ঠিকঠাক রক্ষণই সামলাতে পারেনি। ৫১ মিনিটে আলেহান্দ্রো গারনাচোর পাসে আন্দ্রে সান্তোস জালে বল জড়ালেও সেটাও অফসাইডে বালিত হল।

তবে দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি চেলসিকে। ৫৫ মিনিটে মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে বল পেয়েছিলেন এস্তেভাও। সেখান থেকে দুর্দান্ত গতি ও দারুণ ক্ষিপ্রতায় বার্সার দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেটা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না হোয়ান গার্সিয়ার।

এতে একটা রেকর্ডেও উঠেছে এস্তেভাওয়ের নাম। গতকাল ব্রাজিল তারকার বয়স ছিল ১৮ বছর ২১৫ দিন। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে মোটে তৃতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে নেমে তিন ম্যাচেই গোল করলেন তিনি।

অপটা জানাচ্ছে, কিলিয়ান এমাবাপ্পে (১৮ বছর ১১৩ দিন) ও আর্লিং হলান্ডের (১৯ বছর ১০৭ দিন) পর মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ কীর্তি গড়লেন এস্তেভাও। আর বয়স বিবেচনায় নিলে, এমবাপ্পের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম তিনটি শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার ম্যাচেই গোল করলেন তিনি।

এস্তেভাওয়ের দুর্দান্ত গোলের পর শেষ দিকে আরও একবার গোল উদযাপন করেছে চেলসি। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের পাসে গোলটি করেছেন লিয়াম দেলাপ।

এ জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পাঁচে উঠেছে চেলছি। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে নেমে গেছে বার্সা।

ম্যাচ শেষে এস্তেভাওকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মারেসক। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন, সর্বশেষ ক্লাব বিশ্বকাপ জয় চেলসির আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। চেলসি কোচ বলেছেন, ‘এটা এস্তেভাওয়ের জন্য বড় (অর্জনের) রাত, পুরো ক্লাবের জন্যও। ক্লাব বিশ্বকাপ জেতাটা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এখন তারা বুঝতে পারছে, যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।’

বার্সাকে কোন কৌশলে হারিয়েছেন, সেটাও বলেছেন চেলসি কোচ, ‘যদি বার্সেলোনার কাছে বল না থাকে, তারা অস্বস্তিতে পড়ে— আমরা সেই কারণেই বল দখলে রাখার চেষ্টা করেছি।’