ব্রাজিলের ২৪ জনই নিশ্চিত, আরও ৩ জনে নজর… কোথাও নেইমারকে রাখেননি আনচেলত্তি?

ফ্রান্সের বিপক্ষে হার, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় - এভাবেই সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতি পার করেছে ব্রাজিল। ম্যাচ দুটির পাশে ‘প্রীতি’ শব্দটা উল্লেখ থাকলেও এ দুটি ম্যাচ যে শুধু ‘নিয়মরক্ষার’ ছিল না- এটা হয়তো আলাদা করে বলার দরকার নেই।

বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে এই ধরনের ‘প্রীতি’ ম্যাচ দিয়েই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারে দলগুলো। পাশাপাশি চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠনে এ ধরনের স্কোয়াডেই সূক্ষ্ম নজর রাখেন কোচরা। কার্লো আনচেলত্তিও ব্যতিক্রম নন।

ব্রাজিলের ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ব্রাজিল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পর বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন আনচেলত্তি। সে তালিকায় ২৪ জনের নাম একেবারে ‘পাকাপাকি’ করেছে ব্রাজিল। ২৬ জনের স্কোয়াডের বাকি দুটি জায়গার জন্য তিনজনের ওপর নজর রাখছেন আনচেলত্তি ও ব্রাজিলের নির্বাচক কমিটি। 

যা ব্রাজিলকে ঘিরে বড় প্রশ্নটাকে আবার সামনে নিয়ে আসছে - তাহলে নেইমারের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কতটুকু? 

গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এনদ্রিকের পারফরম্যান্স নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফকে। ওই ম্যাচে বদলি হিসেবে ৭৬ মিনিটে মাঠে নেমে একটা গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন এনদ্রিক। ফলে বিশ্বকাপের দলে এনদ্রিক থাকবেন নাকি থাকবেন না এবং মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডের সংখ্যা কেমন হবে - এ নিয়ে ভাবনায় পড়েছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ।

সংবাদমাধ্যমটি দাবি করছে, ২৪টি জায়গা এরই মধ্যে পাকাপাকি করেছেন আনচেলত্তি। বাকি দুটি জায়গার দৌড়ে আছেন তিনজন - লুকাস পাকেতা, এনদ্রিক ও ইগর তিয়াগো। কোচিং স্টাফের দৃষ্টিতে, তিনজনের মধ্যে দৌড়ে সামান্য এগিয়ে তিয়াগো। 

তা কোন ২৪ জনের জায়গা নিশ্চিত? গ্লোবো ব্রাজিল জানাচ্ছে, গোলপোস্টের নিচে আলিসন, এদেরসন ও বেন্তোকে চূড়ান্ত করেছেন আনচেলত্তি। ফুলব্যাক পজিশনে রেখেছেন ওয়েসলি, আলেক্স সান্দ্রো ও দগলাস সান্তোসকে।

মিডফিল্ডার হিসেবে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসের শুধু স্কোয়াডেই নয়, একাদশেও জায়গা প্রায় নিশ্চিত। এ দুজনের সঙ্গে ফাবিনিও এবং আন্দ্রে সান্তোসকেও সবুজ সংকেত দিয়েছেন আনচেলত্তি।

পাশাপাশি মিডফিল্ডার দানিলো সান্তোসও জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে ব্রাজিল কোচের গুডবুকে ঢুকে পড়েছেন। অ্যাটাকিং থার্ডে দানিলো সান্তোসের উপস্থিতি ও গোল করার ক্ষমতা বিশ্বকাপের মূল দলে তাঁর জায়গা করে নিতে বড় ভূমিকা রাখছে। আর দানিলো সান্তোসের এমন পারফরম্যান্সে লুকাস পাকেতার জায়গা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

তবে গ্লোবো এটাও জানিয়ে দিয়েছে, ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের স্কোয়াডে পাকেতা ডাক না পেলেও তাঁকে নিয়ে ভাবছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। গ্লোবো জানিয়েছে, পাকেতাকে নিয়ে মিডফিল্ডার যদি ৬ জন করা হয়, তাহলে আক্রমণভাগে একটি জায়গা কমে যেতে পারে।

আক্রমণভাগে কয়জন, সে প্রশ্নটাই নেইমার ইস্যুকে আবার সামনে নিয়ে আসে। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, এস্তেভাও, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, লুইস এনরিকে ও জোয়াও পেদ্রো অনেকটাই নিশ্চিত। এর বাইরে সর্বশেষ দুই ম্যাচে আলো ছড়ানো ইগোর তিয়াগোকেও নিয়েও ভাবছেন আনচেলত্তি।

তাহলে নেইমার? কোচিং স্টাফের বরাতে গ্লোবো জানাচ্ছে, বিশ্বকাপ দলে নেইমারের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সান্তোসের হয়ে নেইমারের পরবর্তী ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণে রাখবেন আনচেলত্তি।

যে ২৭ খেলোয়াড়কে নেওয়ার কথা ভাবছেন আনচেলত্তি 

‘চূড়ান্ত’ হওয়া ২৪ জন:

গোলকিপার: আলিসন, এদেরসন, বেন্তো।

ডিফেন্ডার:মার্কিনিয়োস, গাব্রিয়েল মাগালিয়েস,এদের মিলিতাও, দানিলো, লিও পেরেইরা, ব্রেমের, ওয়েসলি, আলেক্স সান্দ্রো, দগলাস সান্তোস।

মিডফিল্ডার: কাসেমিরো, আন্দ্রে সান্তোস, ফাবিনিও, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস।

ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, এস্তেভাও, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, জোয়াও পেদ্রো, লুইস এনরিকে।

 

বাকি দুটি জায়গার দৌড়ে থাকা ৩ জন:

লুকাস পাকেতা (মিডফিল্ডার), এনদ্রিক (ফরোয়ার্ড) ও ইগোর তিয়াগো (ফরোয়ার্ড)।