এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন চেলসির কোচ লিয়াম রোজনিয়র। স্বাভাবিকভাবেই দল ও ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে চেলসি কোচ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে এবার আচমকা ভিন্ন এক খবর সবার সামনে এনেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিয়াম রোজনিয়র জানিয়েছেন, দলটির আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ক্লাব। এই মিডফিল্ডারের এমন শাস্তির কারণও স্পষ্ট করেছেন চেলসি কোচ।
এনজো সম্প্রতি এক চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারে জানান, তার মাদ্রিদ খুব ভালো লাগে... কারণ এটি আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের মতো। এই মন্তব্যই যেন কাল হলো আর্জেন্টাইন তারকার। এমন মন্তব্য ক্লাবের অভ্যন্তরীণ নীতির পরিপন্থী তা-ই তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য দল নিষিদ্ধ করেছে বলে জানান কোচ লিয়াম।
এই কারণে আগামীকাল এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পোর্ট ভেল এবং রোববার (১২ এপ্রিল) ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে না এনজোকে।
এই ব্যাপারে রোজনিয়র বলেন, ‘আমি এক ঘণ্টা আগে এনজোর সঙ্গে কথা বলেছি। এই ব্যাপারে ক্লাব ও আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ও আগামীকালকের ম্যাচ এবং পরের রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলতে পারবে না। আমরা যা গড়ে তুলতে চাই এবং আমাদের যে সংস্কৃতি, সেই সীমা ও অতিক্রম করেছে।’
এই সিদ্ধান্তে এনজোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চেলসি কোচ বলেন, ‘ও হতাশ, কারণ ও চায় আমরা সফল হই। এই সিদ্ধান্ত শুধু আমার নয়,আমরা সবাই একমত হয়েছি। তবে ওর জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। এটি একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। আমাদের ক্লাবের সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে, আর ও সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে।’
২০৩২ সাল পর্যন্ত চেলসির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এনজো ফার্নান্দেসের। তবে কদিন আগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের বিপক্ষে কাছে হারের পর আর্জেন্টাইন এই তারকা প্রকাশ্যে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর কয়েকদিন পরই আর্জেন্টাইন চ্যানেল স্পাইডার কার্পের এক সরাসরি সম্প্রচারের এনজো পরোক্ষভাবে রেয়াল মাদ্রিদে খেলার ইচ্ছা পোষণ করেন।
যখন এনজোকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি আর কোন শহরে থাকতে চান, তখন এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘মাদ্রিদ... আমার মাদ্রিদ খুব ভালো লাগে... এটি বুয়েনস আইরেসের মতো।’
চেলসির এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবশ্য তাদের জন্যই ধাক্কা। চলতি মৌসুমে এনজো ৪৬টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ৪১টিতে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। এই মিডফিল্ডার ইতোমধ্যে ১২টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন।