চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল রাতে দুটি ম্যাচ ছিল। একটিতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ ও রেয়াল মাদ্রিদ, আর অন্যটিতে এমিরেটসে স্পোর্তিং সিপির বিপক্ষে নেমেছিল আর্সেনাল। একই রাতের বায়ার্ন-মাদ্রিদ রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে যেখানে দর্শকদের চোখের পাতা এক করা দায় ছিল, সেখানে আর্সেনাল-স্পোর্তিং সিপি ম্যাচ যেন ঘুমই ধরিয়ে দিয়েছে! ম্যাচটিতে যে বলার মতো তেমন উল্লেখযোগ্য ঘটনাই ঘটেনি!
কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের ম্যাচটিতে স্পোর্তিং সিপির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে আর্সেনাল। ফলে প্রথম লেগে আর্সেনালের পাওয়া ১-০ গোলের জয়টাই মিকেল আর্তেতার দলকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিয়েছে।
অন্যভাবে বলতে গেলে, আর্সেনালের যেন ঘাম দিয়ে জ্বর সেরেছে! সেটা কীভাবে? মার্চের শেষভাগ থেকেই যেন সময়টা পক্ষে নেই গানারদের। লিগ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্সেনাল। এরপর গত সপ্তাহে স্পোর্তিং সিপির মাঠে গিয়ে কোনোমতে ১-০ গোলে জিতলেও ওই ম্যাচ তুলনামূলক দাপট দেখিয়েছিল পর্তুগালের ক্লাবটিই।
সেই জয়ের পর গত শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের কাছে হেরেছে আর্সেনাল। এতে লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকলেও চেয়ারটা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমন সব ধাক্কার মধ্যে গতকাল যে আর্সেনাল আরেকটা অপ্রত্যাশিত ফল দেখেনি, সেটা ভেবেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন আর্তেতা!
গতকালের ম্যাচটাতে বল দখলের লড়াইয়ে দুদল ছিল সমানে সমান। তবে শট বেশি নিয়েছে আর্সেনাল। স্পোর্তিং সিপির ৮ শটের বিপরীতে আর্তেতার শিষ্যরা শট নিয়েছিল ১৫টি। শট নিলেই তো হবে না, দুদল মিলে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মোটে ১টি করে শট। দুদলই যেন বল নিজেদের কাছে রাখতে বেগ পাচ্ছিল।
কোনোমতে ৯০ মিনিট শেষ হতেই আর্সেনাল খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, তাঁরা যেন হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ।
অবশ্য এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বেও একবার স্প্যানিশ ক্লাবটির মুখোমুখি হয়েছিল আর্সেনাল। ওই ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্তেতার দল।