গোলকিপারের ভুল, দ্রুততম গোলের রেকর্ড, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো, লাল কার্ড বিতর্ক কিংবা শেষ দিকে স্বপ্নভঙ্গ- ফুটবল নয়, আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে যেন রোলার কোস্টার রাইডে নেমেছিল বায়ার্ন মিউনিখ ও রেয়াল মাদ্রিদ! আর সে রোমাঞ্চকর ‘রাইডে’ শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ভানসাঁ কম্পানির দল।
তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় ঘটেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রেয়াল মাদ্রিদের।
বায়ার্ন অবশ্য জয়টা পেয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে লুইস দিয়াস ও মাইকেল অলিসের দুই গোলে। ঘরের মাঠে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে ‘কামব্যাক’ শব্দটা সাম্প্রতিক সময়ে যেন নিজেদের দখলে নিয়েছিল মাদ্রিদ। গতকাল মাদ্রিদের সেই প্রেসক্রিপশনেই মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন।
অবশ্য ম্যাচটার আগে ইতিহাসও বিপক্ষে ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টদের। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল আলভারো আরবেলোয়ার দল। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছিল, এবারের আগে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে যে ৫ বার রেয়াল মাদ্রিদ হেরেছিল, তার একবারও পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি। ইতিহাসের ধারা অব্যাহত থেকে সংখ্যাটা গতকাল ৫ থেকে ৬-এ উন্নীত হয়েছে।
এ নিয়ে পরপর দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগেই হার দেখল রেয়াল মাদ্রিদ। অথচ এই দুবারের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা ইউরোপিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু একবার দুই লেগে হেরেছিল মাদ্রিদ, সেটাও ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে!
তবে প্রথম লেগে হারা মাদ্রিদ যে গতকাল ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগায়নি, এমন নয়। বায়ার্ন গোলকিপার মানুয়েল নয়ারের অবিশ্বাস্য এক ভুলে ম্যাচের মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যেই মাদ্রিদকে (১-০) এগিয়ে দিয়েছিলেন আরদা গুলাশ। চ্যাম্পিয়নস লিগে মাদ্রিদের ইতিহাসে দ্রুততম গোল এটি।
অন্যদিকে এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দ্রুত কখনোই গোল হজম করেনি বায়ার্ন মিউনিখ। তবে ম্যাচে সমতা টানতে সময় নেয়নি বাভারিয়ানরা। ৬ষ্ঠ মিনিটে হেডে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন পাভলোভিচ।
২৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে মাদ্রিদকে আরেকবার এগিয়ে (২-১) দেন গুলাশ। তবে এবারও লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি মাদ্রিদ। ৯ মিনিট পর বায়ার্নকে সমতায় (২-২) ফিরিয়ে হ্যারি কেইন যেন আরেকবার জানান দিলেন, কেন তাঁকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়!
বিরতির আগেই আরেকদফা এগিয়ে যায় মাদ্রিদ। এবার স্কোরশিটে নাম লেখান এমবাপ্পে। ম্যাচের স্কোরলাইন তখন মাদ্রিদের পক্ষে (৩-২)। আর দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন তখন ৪-৪ সমতায়। এমন অবস্থায় দ্বিতীয়ার্ধও প্রায় শেষের পথে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সব হিসাব পাল্টে যায় ৮৬ মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। এই হলুদ কার্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে! মাদ্রিদের খেলোয়াড়রাও রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান তাঁর এমন সিদ্ধান্তে।
কামাভিঙ্গার ওই লাল কার্ডের ৩ মিনিট পরেই বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে মাদ্রিদ সমর্থকদের হৃদয়ে ছুরি চালান লুইস দিয়াস। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্প্যানিশ ক্লাবটি। উল্টো যোগ করা সময়ে আরেকবার মাদ্রিদের জালে বল জড়িয়েছেন মাইকেল অলিসে।
রেয়াল মাদ্রিদের যাত্রা শেষ। কিন্তু সেখানেই নাটকীয়তার শেষ নয়। ম্যাচ শেষে রেফারিকে ঘিরে ধরে তীব্র প্রতিবাদ করে লাল কার্ড দেখে ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন গুলাশ।
উল্লেখ্য, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। একদিন আগে লিভারপুলের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফরাসি ক্লাবটি।


মাদ্রিদ-বায়ার্ন থ্রিলারের উল্টো দিকে আর্সেনাল যেন ‘ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি’
