স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল

ভিনিসিয়াসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলো ব্রাজিল। দাপুটে জয়ে সি-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে সেলেসাওরা। ম্যাচের শেষ দিকে নামেন নেইমার। এদিকে, হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে মরক্কোও। 

ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আগ্রহের কেন্দ্রে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তো বটেই। তার চেয়ে বড় কারণ নেইমার। নেইমারকে বেঞ্চে রেখেই স্কটিশদের বিপক্ষে নামে সেলেসাওরা। 

কার্লো আনচেলত্তি কথা রেখেছেন। বলেছিলেন আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আরো ছন্দময় ব্রাজিলকে দেখা যাবে স্কটিশদের বিপক্ষে। ম্যাচ জুড়ে অনেক গোছানো ছিল ভিনি-পাকেতারা। যেন খুঁজে পাচ্ছে তাদের হারানো জোগো বনিতো।

ব্রাজিল প্রথম গোলটা দিয়েছে স্কটল্যান্ড ডিফেন্সের মামুলি ভুলে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মতো কেউ ফরোয়ার্ডে থাকলে এই ভুলের মাশুল না দিয়ে উপায় নেই। 

২২ মিনিটে আবারো জালের দেখা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়াস। তবে ভিএআর চেকে, ফাউল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। 

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের অন্তত ৪টি গোল হতো। চোটে পড়া রাফিনিয়ার জায়গায় নেমে রায়ান আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। সহজ সুযোগ মিস করেছেন একাধিকবার। 

তবে ভিনি তো আছেন সেরা ছন্দে। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে গুইমারেসের ক্রস থেকে দারুন এক হেডারে জোড়া পূর্ণ করেন ভিনি। সেই সাথে ব্রাজিলের লিডও দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনির হ্যাটট্রিকও হয়ে যেতে পারতো। পেয়েছিলেন সুবর্ণ সুযোগ। তবে ফিনিশিংটা হয়নি।

ম্যাচ জুড়ে একের পর এক আক্রমণ করেছে ব্রাজিল। তারই রেশ ধরে ৬০ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার গোল। এবারও অ্যাসিস্টে গুইমারেস। প্লে মেকারের ভূমিকায় গুইমারেস এদিন ছিলেন অনবদ্য।  

৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নামেন নেইমার। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার নামলেও আসর জুড়েই আলোচনায় ব্রাজিলের নাম্বার টেন। এক্সপার্টরা বলছেন, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ই নির্ভর করছে ফিট নেইমারকে কতখানি পাওয়া যাবে তার ওপর। আনচেলত্তির দলের ছন্দের সাথে ভালোই মানিয়ে নিলেন নেইমার।  

রিয়াল মাদ্রিদকে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে নেওয়া আনচেলত্তি গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাস্টার মাইন্ড। তার কোচিংয়ে ক্রমেই বদলে যাচ্ছে ব্রাজিল। ফিরে আসছে জোগো বনিতো। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেলেসাওদের এই জয় বিশ্বকাপে বহুদূর যাওয়ার আভাস।

স্কটিশদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে সি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল। আর হাইতির বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া মরক্কো, দ্বিতীয় হয়ে উঠেছে নকআউটে।