ভিনিসিয়ুসের বাতিল হওয়া ‘গোল’টি, আসলেই কি ফাউল ছিল?

স্কটল্যান্ড রক্ষণের ভুলের সুযোগে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২২ মিনিটে আরেকবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল জড়িয়েছিলেন রেয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর ভিনিসিয়ুসের ওই গোলটি বাতিল হয়ে যায়। উল্টো জানানো হয়, গোলের আগে ভিনিসিয়ুস ফাউল করেছিলেন।

ভিনিসিয়ুস পরবর্তীতে আরও একটি গোল করেছেন। ব্রাজিলও ম্যাচটা জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে। তাতে গ্রুপের শীর্ষ দল হয়েই নকআউট নিশ্চিত হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের ওই ‘বাতিল গোল’টি নিয়ে বিতর্ক থামছে না। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক দাবি করছেন, ভিনিসিয়ুসের ওই ঘটনা গোল ফাউল হওয়ার মতো কিছু ছিল না। প্রিমিয়ার লিগের সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানের মতে, রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আলোচিত ঘটনাটি ম্যাচের ২২ মিনিটের। স্কটল্যান্ড রক্ষণের ভুলে বল পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে জালে বল জড়ান তিনি। তবে ভিএআর সেই গোলটি বাতিল করে। সে সময় ভিনিসিয়ুসকে ভীষণ হতাশ মনে হয়েছিল। পরে অবশ্য আরও একটা গোল করেন রেয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার।

এদিকে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের রেফারি সিজার রামোসের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের সহকারী রেফারি বলেছেন ড্যারেন ক্যান, ‘সত্যি বলতে, স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছে। বল পায়ে লাগার আগে সামান্য স্পর্শ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু  সেটি আমার কাছে ফাউল মনে হয়নি। সে (ভিনিসিয়ুস) শুধু নিজের অবস্থান ঠিকঠাক রেখেছিল। বরং ডিফেন্ডারই ওর পায়ে লাথি মেরেছে।’

ড্যারেন ক্যানের মতে সেটি ফাউল হলেও সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেনের মতে, রেফারি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, ‘আমার মতে, এটা ফাউলই ছিল। সংস্পর্শ সামান্য হোক বা না হোক, এটা ফাউলই। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, বল ক্লিয়ার করার সময় সে (হেন্ড্রি) আঘাত পেয়েছে। এতে সে বল মারতে পারেনি। ওকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এটা পরিষ্কার ফাউল এবং রেফারি সঠিক নিয়েছেন।’

স্কটল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার যেখানে স্কটিশদের পক্ষে মত দিয়েছেন, তেমনি ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার লুকাস লেইভার মত গেছে ব্রাজিলের দিকেই। অর্থাৎ, লেইভাও মনে করেন, রেফারির সিদ্ধান্ত ভুল।

ব্রাজিলের সাবেক তারকা বলেছেন, ‘আমার মতে এটা ফাউল নয়। দারুণ প্রেসিং ছিল। গোলটি হলে স্কোর ২-০ হতো। রেফারিং বিশেষজ্ঞরা কী বলেন সেটা দেখা যাক, কিন্তু আমার কাছে এটি ফাউল নয়।’

এদিকে স্কটল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক র‍্যাচেল কর্সি বলেছেন, ‘ভিনিসিয়ুস বল স্পর্শ করার আগেই (হেন্ড্রির সঙ্গে) সংস্পর্শ হয়েছে। তখন বল তার (ভিনির) নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সে আগে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়ের গায়ে আঘাত করেছে। স্কটল্যান্ড এক্ষেত্রে কিছুটা ভাগ্যবান ছিল।’