আফ্রিকার দ্বীপদেশ কেপ ভার্দের এক ফুটবল একাডেমিতে কোচের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে ছোট ছোট ছেলেদের ফুটবল অনুশীলন। এখানেই তৈরি হচ্ছে কেপ ভার্দের আগামী দিনের ফুটবলাররা। সুদূর উত্তর আমেরিকায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ বিশ্বকাপে যখন লেখা হচ্ছে কেপ ভার্দের সাফল্যগাঁথা, তখনই আলোচনায় উঠে এসেছে এই ফুটবল একাডেমিটি। কেন? কারণ এখান থেকেই উঠে এসেছে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার।
মাত্র ৫ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে এবার ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে খেলছে প্রথমবারের মতো। আর নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শনিবার ভোর ৪টায় রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে তাঁরা মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচটিকে ঘিরে দেশটির ফুটবলপ্রেমী জনগণ দারুনভাবে উচ্ছ্বসিত।
কেপ ভার্দের ফুটবল কর্মকর্তারা বলছেন, এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার পরিকল্পনার ফলই আজ মিলছে বিশ্বমঞ্চে।
দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের একাডেমি থেকে এরইমধ্যে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন ফুটবলার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু ভালো ফুটবলার তৈরি করা নয়, বরং শৃঙ্খলাবোধ ও ইতিবাচক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলাও।
এছাড়া ফিফার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় কেপ ভার্দে পেয়েছে ৫৭ লাখ ডলারেরও বেশি সহায়তা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কৃত্রিম টার্ফ। এছাড়া স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। আর এসব উদ্যোগেরই সুফল মিলেছে এবারের বিশ্বকাপে।
গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে অপরাজিত থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না তাঁরা। এখন অপেক্ষা, আরেকটি ইতিহাসের। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলেইতো সারাজীবন গর্ব করার মতো উপলক্ষ্য পেয়ে যাবে ৫ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি।