মেসি-ইয়ামাল লড়াইয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ আজ

বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল আজ রাত ১টায়। শিরোপা লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্ব মঞ্চে এর আগে দুই দল একবারই লড়েছিল। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-স্পেনের দ্বৈরথ। ফাইনালে মেসি-ইয়ামালের লড়াই নিয়েও রোমাঞ্চিত সমর্থকেরা।  

বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ঠিক হয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে আলোচনা হয়েছে এই ছবিটি ঘিরে। স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা ইয়ামালের শৈশবকালে তার প্রতি স্নেহাতুর মেসি।

শুধু ইয়ামাল নয়, বার্সার লা মাসিয়া একাডেমিতে গড়ে ওঠা ওলমো, কুকুরেয়াসহ বর্তমান স্পেন দলের অনেকেই মেসির সান্নিধ্য পেয়েছেন। এই স্পেন দলটির প্রায় সব খেলোয়াড় বার্সেলোনার। আর মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার তো বার্সাময়। মেসিকে মিস্টার বার্সেলোনা বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। বিশ্বকাপ ফাইনালে তাই আর্জেন্টিনা বা স্পেন যে দলই জিতুক, বার্সা জিতে যাবে, এটা নিশ্চিত। 

ইয়ামালের স্পেনের সঙ্গে মেসির আর্জেন্টিনার লড়াইটা ক্ল্যাশ অব জেনারেশনও বলা যায়। ইউরোজয়ী স্পেন দলের সবাই খুব তরুণ। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের গড় বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। 

আর্জেন্টিনা-স্পেনের মুখোমুখি লড়াই কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। ১৪ ম্যাচে সমান ৬টি করে জয় দু-দলের। বাকি ২ ম্যাচ ড্র। তবে বিশ্বকাপে এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে, বিদায় নিয়েছিল স্পেন।

আর্জেন্টিনা দলের কি প্লেয়ার নিঃসন্দেহে মেসি। বিশ্বকাপ তো বটেই। গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল সবকিছু তার দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

অন্যদিকে ইয়ামাল চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলছে। এখন পর্যন্ত সেরা রূপে দেখা যায়নি তাকে। এই ইয়াংস্টার রদ্রি, ওলমো, কুকুরেয়ার সাথে ফাইনালে জ্বলে উঠলে, স্পেন জিততে পারে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।  

স্পেন একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে আর্জেন্টিনা একাদশে সিমিওনের জায়গায় ডি পল ও মোলিনার বদলে মন্টিয়েলকে দেখা যেতে পারে।

১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। দীপ্তিময় স্পেনকে হারিয়ে আকাশি-নীলরা কি পারবে জার্সিতে চার তারকা বসাতে?