উয়েফার বিশ্বকাপ বয়কটের পর ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের

সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর এ বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে সদস্য দেশগুলোকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ফিফা। তবে ইনফান্তিনোর এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে উয়েফা থেকে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিফা যদি বিশ্বকাপ বিক্রির সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেয়, তবে উয়েফার সদস্যভুক্ত ৫৫ দেশ বিশ্বকাপ বর্জন করবে।

উয়েফার পর এবার ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে কনক্যাকাফও।। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারীবিয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার ৪১টি সদস্যদেশ অবশ্য উয়েফার মতো বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত না নিলেও ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কনক্যাকাফ।

কনক্যাকাফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে সদস্যরা প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এত কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কাঠামোর কোনো পর্যালোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই প্রস্তাবটি আনার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পরও ফিফা ফরোয়ার্ডের বর্তমান ও নতুন কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নে কেন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। পাশাপাশি এই আলোচনা আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে। আর এসব কারণেই কনক্যাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্যদেশ ফিফার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।’

বিবৃতিতে কনক্যাকাফ আরও উল্লেখ করেছে, ফিফার বিদ্যমান বিপুল অর্থ ভাণ্ডার কীভাবে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে ফুটবল উন্নয়নের জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড তহবিল বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বিবৃতির শেষ অংশে কনক্যাকাফ জানিয়েছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং ফুটবলের সবচেয়ে বড় সম্পদ অবশ্যই ফুটবল পরিবারের হাতেই থাকা উচিত।