সমালোচনা আর বিরোধিতার মুখে ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’র পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলো ফিফা। ব্যাপক সমালোচনা, নিজেদের কর্মকর্তাদের বিরোধিতা এবং ইউরোপের দেশগুলোর বয়কটের হুমকির মুখে প্রস্তাবটি বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য ২ হাজার ডলারের একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। ওই প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার প্রস্তাব ছিল। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর থেকেই ফিফার ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেই চাপে পড়ে গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, প্রস্তাবটি আর সামনে এগোবে না।

ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘সব পক্ষের মতামত শোনার পর বোঝা গেছে, এই প্রকল্প এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের পথে সহায়ক নয়।’

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল, ফিফার বড় বাণিজ্যিক কার্যক্রম— পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপসহ— একটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেওয়া হবে। বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা দেওয়া হতো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের।

এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ফিফার ভেতর থেকেই। বিশ্বকাপ নিয়ে হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি থাকা কার্লোস কর্দেইরো প্রতিবাদ জানিয়ে সভাপতির উপদেষ্টার পদ ছাড়েন। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, ‘ফিফা যখন বিশ্বকাপের অংশ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে, তখন আমি পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।’ পাশাপাশি তিনি ফিফার অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও এই বিষয়ে অবস্থান জানানোর আহ্বান জানান।

এরপর ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোরও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা তৈরির সময় ফিফার কর্মীদের বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। লামোরের ভাষায়, ‘এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্প বন্ধ হওয়া নয়, এখন ফুটবলের নেতাদের নিজেদের সঠিক প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’

এর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ সব ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ’কিছু বিষয় বিক্রি করার মতো নয়।’ উয়েফা বলেছিল, বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব পালনে এটি বড় ব্যর্থতা। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)–ও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।

ফিফার প্রস্তাবে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানকে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছেন জোশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।

ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এখন সব পক্ষকে আবার আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। তার লক্ষ্য, ফুটবলের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা।

তবে এই ঘটনা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, তিনি আরও একটি চার বছরের মেয়াদে নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।

এর আগে বিতর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরও ইনফান্তিনোর অবস্থান শক্ত ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির এই ব্যর্থ উদ্যোগ তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।