একজন আসছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে, একজন ইংল্যান্ড থেকে, দুজনের আছে ইউরোপের দুই দেশের ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা। আর একজন তো বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সির জন্য জাপানের পাসপোর্টই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!
অর্থাৎ এক-দুজন নয়, আরও পাঁচজন প্রসাবী ফুটবলার পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সেই ৫ জনকে নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। জানিয়েছেন, দ্রুতই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন তারা।
তবে প্রশ্ন হলো, তারা কি সরাসরি জায়গা পাবেন জাতীয় দলে? উত্তরটা হলো, না। আগে দিতে হবে পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার সময় মাত্র পাঁচ দিন! থমাস ডুলির সেই পরীক্ষায় উৎরাতে পারলেই মিলবে লাল-সবুজের জার্সিতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ।
কিন্তু কোন সেই ৫ প্রবাসী ফুটবলার? হামজা-শমিত-জায়ান-ফাহামেদুলদের পর, সেই জাতীয় দলের জার্সি উঠতে যাচ্ছে কোন প্রবাসী ফুটবলারের গায়ে?
শুরুটা করা যাক আরহাম ইসলামকে দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা এই তরুণ বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের হয়েও খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মাঠে নেমেছিলেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আসছে নভেম্বরের উইন্ডোতেই বাংলাদেশ তাকে চাইলেও পরীক্ষার কারণে আসতে পারছেন না আরহাম। তবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ব্যাপারে তার আগ্রহ রয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী মার্চের উইন্ডোতে লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যেতে পারে তাকে।
এরপর ইউসুফ আহমেদ। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, প্রয়োজনে খেলতে পারেন ফরোয়ার্ড হিসেবেও। বর্তমানে বার্মিংহামের সঙ্গে যুক্ত ইউসুফের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কাজও শেষ। আর সবচেয়ে বড় খবর—কোচ থমাস ডুলির সঙ্গে এরই মধ্যে কথা হয়েছে তার। খুব শিগগিরই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ইউসুফের।
এরপর ইতালি থেকে আসছেন দেবজিৎ সরকার। চতুর্থ স্তরের ফুটবলে খেলা এই তরুণের প্রোফাইল ইতোমধ্যে থমাস ডুলির হাতে পৌঁছে দিয়েছেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। ডুলিও তাকে ক্যাম্পে এসে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিতে রাজি হয়েছেন। সেই ক্যাম্পে যোগ দিতে এরইমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন দেবজিৎ।
রক্ষণভাগের জন্য নতুন মুখ হতে পারেন ইয়াসির তাহমিদ হাসান। রোমানিয়ার চতুর্থ স্তরের ক্লাবে ধারে খেলছেন এই সেন্টার-ব্যাক। তবে তার মূল ক্লাব তৃতীয় স্তরের। সেন্টার-ব্যাকের পাশাপাশি রাইট-ব্যাকেও খেলতে পারেন ইয়াসির। ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই রোমানিয়া থেকে ঢাকায় এসে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেন তিনি।
আর সবশেষে শুকি ইতোফুসা। এই গল্পটাই সবচেয়ে আলাদা। জাপানে বেড়ে ওঠা শুকি ইতোফুসা বাংলাদেশের হয়ে খেলতে এতটাই উন্মুখ যে, জাপানের পাসপোর্ট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসে ফর্টিস এফসিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধনও। এখন অপেক্ষা শুধু পাসপোর্টের। ফাহাদ করিমের আশা, এক-দুই দিনের মধ্যেই সেটিও হয়ে যাবে।
তবে এই চারজনের জন্য জাতীয় দলের দরজা এখনও পুরোপুরি খোলেনি। নিজেদের খরচেই বাংলাদেশে আসছেন তারা। থমাস ডুলির ক্যাম্পে থাকবেন পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিনে কোচ দেখবেন তাদের পারফরম্যান্স, সামর্থ্য এবং জাতীয় দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। তারপর ডুলিই সিদ্ধান্ত নেবেন— কে থাকবেন, আর কে বাদ পড়বেন।