ম্যাচ না খেলানোয় রোনালদোর অসন্তোষ, সমস্যা সমাধানে জরুরি বৈঠক

কয়েকদিন আগে নিজের অবসর প্রসঙ্গে রোনালদো জানিয়েছিলেন, যতদিন সম্ভব পর্তুগাল জাতীয় দলকে সাহায্য করতে চান তিনি। যেদিন মনে হবে পর্তুগালকে আর সাহায্য করতে পারছেন না, সেদিনই অবসর নেবেন।

এমন মন্তব্য করার ঠিক এক সপ্তাহ না যেতেই উল্টো চিত্র দেখা গেল। সম্প্রতি নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে তেমন প্রভাব রাখতে না পারায় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে খেলাননি কোচ জর্জ জেসুস। ওই ম্যাচের পুরো সময় রোনালদোকে বেঞ্চেই রাখেন তিনি।

তবে কোচের এমন সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেননি রোনালদো। এমনকি মাঠে গিয়েও যোগ দেননি দলের অনুশীলনে। সতীর্থরা যখন অনুশীলন শুরু করেন, রোনালদো হোটেলে ফিরে গিয়ে একা একা জিমে সেশন কাটিয়েছেন। রোনালদোর এমন আচরণ ঘিরে বড় বিপাকেই পড়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। সমস্যা সমাধানে তিন পক্ষের জরুরি বৈঠক পর্যন্ত বসতে যাচ্ছে।

তা সেই বৈঠকে কে কে অংশ নেবেন? ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুত মেরকাতোর প্রতিবেদন অনুসারে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা, কোচ জর্জ জেসুস ও রোনালদো থাকবেন সেই বৈঠকে। রোনালদোকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সমাধান করাই ওই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। 

অথচ এক সপ্তাহ আগে রোনালদো বলেছিলেন, ‘আমি খেলি বা না খেলি, দলকে সাহায্য করার জন্য আমি এখানে আছি। আমি অন্য সবার মতোই দলের একজন। সব সময় এমনটাই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আবারও বলছি, কোচ আমার কাছে যা চাইবেন, আমি সেটাই করব— খেলা, মাঠ থেকে উঠে আসা কিংবা একেবারেই না খেলা। পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে।’

কিন্তু ছয় দিন পরই সেই কথার যেন উল্টো চিত্র দেখা গেল। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগাল ১-০ গোলে জিতলেও সেই ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে খেলাননি কোচ। পুরো ফিট থাকার পরও গত ১৮ বছরে এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচের পুরো সময় বেঞ্চে থাকতে হলো রোনালদোকে।

বেঞ্চে বসে থাকতে যে রোনালদোর খুব একটা ভালো লাগেনি, সেটা ক্যামেরায় তাঁর চোখ-মুখে অসন্তোষের ছাপ দেখেই বোঝা গিয়েছিল। ম্যাচের পর অবশ্য পর্তুগাল কোচ স্বীকার করেন, শেষ ৩০ মিনিটের জন্য রোনালদোকে বদলি হিসেবে নামানোর কথা চিন্তা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি।

জেসুস পরে বলেন, ‘আমি জানি না, (বেঞ্চে থাকায়) সে (রোনালদো) হতাশ হয়েছে কি না। এর উত্তর একমাত্র সে-ই দিতে পারবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত— ওকে না খেলানোর অর্থ এই নয় যে, আমি ওর ওপর ভরসা করি না। বরং ম্যাচের আগে আমি ওকে বলেছিলাম, “তোমাকে শুরুতে খেলাব না, তবে বদলি হিসেবে মাঠে নামাব।’”

পর্তুগাল কোচ আরও বলেন, ‘এটাই ফুটবল। এখানে কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করে। আর এই ম্যাচে ফরোয়ার্ড পরিবর্তনের কোনো কারণ ছিল না। আমাদের সামনে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ আছে। ওই ম্যাচে হয়তো রোনালদোই শুরুর একাদশে থাকতে পারে।’

এদিকে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সুইডেনের মালমো শহরে নিজেদের ক্যাম্পে পৌঁছানোর পরও রোনালদোকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের। গতকাল মঙ্গলবার দলীয় অনুশীলনের ৩০ মিনিট আগে মাঠে গেলেও সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেননি রোনালদো। ওই সময় কোচ জেসুসের সঙ্গে আলাপ করে হোটেলে ফিরে যান তিনি।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ওই মাঠে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় রোনালদো হোটেলে ফিরে গিয়ে জিমেই অনুশীলন পর্ব শেষ করেন।

পর্তুগিজ ফেডারেশন ব্যাখ্যা দিলেও সেটা খুব বেশি আশাবাদী করতে পারছে না ফুটবল অঙ্গনকে। দেশটির অনেক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোনালদোকে ঘিরে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা। আর এই বৈঠকের জন্য তাঁর পরিকল্পনাও পরিবর্তন করেছেন।

পরিকল্পনা অনুসারে, বুধবার আজোরেসে যাওয়ার কথা ছিল প্রোয়েনসার। সেখানে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-২১ দলের ম্যাচ দেখার কথা ছিল তাঁর। ওই ম্যাচে জয় পেলেই ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা নিশ্চিত করত পর্তুগালের তরুণেরা। এরপর বৃহস্পতিবার ডেনমার্কে গিয়ে পর্তুগাল আর ডেনমার্কের ম্যাচ দেখার কথা ছিল তাঁর।

কিন্তু রোনালদোর পরিস্থিতি ঘিরে আপাতত আজোরেস সফর বাতিল করেছেন প্রোয়েনসা। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুত মেরকাতোর খবর অনুসারে, পর্তুগিজ সভাপতি সরাসরি কোপেনহেগেন যাবেন। সেখানে কোচ জর্জ জেসুস ও রোনালদোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন।