ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের ১১৫টি অভিযোগ উঠেছিল। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক ও বিবিসি গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হতে যাচ্ছে ম্যান সিটি। সেই খবরই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০৯-১০ থেকে শুরু করে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটি। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই সময়কালে সিটি তাদের প্রকৃত আয়ের চেয়ে ৯০ কোটিরও বেশি পাউন্ড আয় বেশি দেখিয়েছে, বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ১৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি।
বিবৃতিতে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশন দেখতে পেয়েছে, ম্যান সিটি বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ভুয়া চুক্তি’ করেছিল। এসব চুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে আয় বাড়ানো এবং খরচ কম দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি নিজেদের আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে ক্লাবটি ভুল হিসাব জমা দিয়েছিল। সঠিক হিসাব দিলে প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা বড় মাত্রায় লঙ্ঘন করত সিটি।
সেখানেই শেষ নয়, দলটির খেলোয়াড় ও তৎকালীন কোচ রবের্তো মানচিনির সঙ্গে ‘ভুয়া’ ইমেজ স্বত্বের চুক্তি করারও অভিযোগেও সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এসব চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিমভাবে তাদের আয় বাড়িয়ে দেখানো।
তবে সিটি এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা আগামী ২ অক্টোবর। সিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে তারা।
ক্লাবটির দাবি, কমিশনের সিদ্ধান্তে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে এবং তাই সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সিটির প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো জানান, এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হলো ‘প্রিমিয়ার লিগের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’।
আপিলের পাশাপাশি স্বাধীন কমিশনের অধীনে সিটির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়েও শুনানি চলবে। যত দ্রুত সম্ভব পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চায় প্রিমিয়ার লিগ।
সিটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পুরো ফুটবল বিশ্বেই নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হাল সিটির মালিক আকুন ইলিচালি সিটির এমন কর্মকাণ্ডকে ‘আর্থিক ডোপিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারাও এতে বিস্মিত হয়েছেন।
প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স এই মামলাকে ‘প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে সিটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুসারে, সিটির পয়েন্ট কেটে নেওয়া হতে পারে। আর তাতে রেলিগেশন বা অবনমনের মুখে পড়তে পারে ক্লাবটি!
তবে এর আগে ২০২১-২২ মৌসুম শেষ হওয়া সময় পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লাখ পাউন্ড আর্থিক সীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় এভারটনকে ১০ পয়েন্ট জরিমানা করা হয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগের শাস্তির কাঠামো অনুযায়ী, প্রাথমিক লঙ্ঘনের জন্য ৬ পয়েন্ট এবং নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রতি ৫০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য আরও ১ পয়েন্ট করে কাটা হয়েছিল। তবে এবার সিটির ক্ষেত্রে ঠিক কোন শাস্তি দেওয়া হবে, সেটা এখনো ধারণা করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুনানির সময় সিটির পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীর আচরণ নিয়েও স্বাধীন কমিশন কঠোর মন্তব্য করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ক্লাবটির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। কমিশনের ভাষ্য, কিছু সাক্ষী এমন তথ্য দিয়েছেন, যা তারা নিজেরাই মিথ্যা বলে জানতেন। অর্থাৎ তারা অসততার আশ্রয় নিয়েছেন।


