এমনটা হয়তো শুধু সৌদি আরবে সম্ভব! আরেকটু বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচুর্যের ঝলকও ধরে নিতে পারেন এটিকে।
একজন খেলোয়াড় একটা ম্যাচে ভালো খেলেছেন, সেটির পুরস্কার হিসেবে উপহার পেলেন একটা রোলেক্স ঘড়ি! তা-ও কী? বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ির ব্র্যান্ডগুলোর একটি তাকে উপহার ক্লাবের কোনো কর্মকর্তা কিংবা মালিকপক্ষের কেউ দেননি, দিয়েছেন এক সাংবাদিক!
সৌদি প্রো লিগে গত পরশু নিজেদের প্রথম ম্যাচটা খেলেছে আল ইত্তিহাদ। আল রায়েদের মাঠে ৩-০ গোলে জয়ের পথে দলটির সেরা তারকা বেনজেমা অতটা আলো ছড়াতে পারেননি, তবে কদিন আগেই লিভারপুল থেকে দলটিতে যোগ দেয়া ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাবিনিও ভালো খেলেছেন। সে ম্যাচের পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে একটা ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ শেষে টিম বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন ফাবিনিও, এমন সময়ে এক ভদ্রলোক এসে তাকে অভিবাদন জানাতে জানাতে হাতে ঘড়ি পরিয়ে দিলেন! যে-সে ঘড়ি নয়, রোলেক্স!
প্রথমে ভাবা হয়েছিল, উপহারটা দিয়েছেন এক ভক্ত। কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানাচ্ছে, ফাবিনিওকে যিনি উপহারটা দিয়েছেন, তিনি আসলে সৌদি আরবের বিখ্যাত এক সাংবাদিক। নাম – ইব্রাহিম আল-ফারিয়ান। ৬৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিক ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন, সৌদি ফুটবলে ‘নাটুকেপনা’র জন্য বেশ পরিচিতিও তিনি। ভাইরাল হওয়ার প্রতি তার ঝোঁক অনেক।
এবং সৌদি ফুটবলে তারকাদের সমাগমের পর তার এমন নাটুকেপনা এবারই প্রথম নয়।
ফুটবলারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সব সময়ই বেশ ভালো থাকে বলে জানাচ্ছে মার্কা। অবশ্য এমন পুরস্কার-টুরস্কার দিতে থাকলে সখ্য গড়ে তোলা সহজও হয়ে যায় বটে! তবে সব ক্ষেত্রে পুরস্কার যে শুধু অর্থমূল্যেই দামি হয়, এমন নয়। কখনো কখনো এমন উপহারও দেন, যেটির মূল্য নির্ধারণের সাধ্য ধরাধামের কোনো সম্পদের নেই।
ইত্তিহাদে ফাবিনিওরই সতীর্থ বেনজেমা সৌদি আরবে যাওয়ার পরই যেমন, আল-ফারিয়ান উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন ফরাসিতে ভাষান্তরিত আল-কোরআন। যা পেয়ে বেনজেমা বেশ মুগ্ধ হয়েছিলেন।
আর গতকাল নেইমার আল হিলালে যোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত আল হিলালের তো বটেই, সৌদি ফুটবলেরই সবচেয়ে বেশি দামি কেনা খেলোয়াড় – ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার মালকমকে এর আগে আল-ফারিয়ানের দেয়া ‘উপহার’ অবশ্য সে অর্থে দামি নয়। অভিবাদনের এক পর্যায়ে মালকমের গালে চুমু এঁকে দিয়েছিলেন আল-ফারিয়ান - এমনটাই জানাচ্ছে মার্কা। গালে বা হাতে চুমু এঁকে অভিবাদন অবশ্য সে অঞ্চলের প্রথা।
এ সবকিছুই আবার ভিডিও করে রাখেন আল-ফারিয়ান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা আর কী! মার্কা অবশ্য জানাচ্ছে, সৌদি আরবের বিখ্যাত এই সাংবাদিক তার ভিডিও, খবর ও মিম ছড়িয়ে সৌদি লিগের প্রচারণার কাজও করেন। কাজটাতে মোটামুটি সফলই বলা চলে তাঁকে!
সুযোগ পেলে নেইমারকে কীভাবে অভিবাদন জানান তিনি, সেটিই এখন দেখার।