সার্চ কমিটি করে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার ভাবনা আছে: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গন। অন্যান্য সব সেক্টরের মতো ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতেও সংস্কারের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) যেমন কাজী সালাউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন দেশীয় ফুটবলের সমর্থকদের একটি অংশ। তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ অন্যান্য বোর্ড পরিচালকদের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন অনেকে।

এমন টালমাটাল পরিস্থিতি আজ রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ক্রীড়া খাতকে রাজনীতি মুক্ত করার কথা ভাবছেন তিনি। এর জন্য একটি সার্চ কমিটি করার ঘোষণাও দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেষ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে আওয়ামীপন্থি অনেক কর্মকর্তাকে ফেডারেশনে দেখা যাচ্ছে না। সে কারণে নিজ নিজ ফেডারেশনের বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারছেন না তারা। এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘বিভিন্ন ফেডারেশনগুলোতে অনেকেই অনুপস্থিত। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্রীড়া খাতে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে অনেক গুঞ্জন শোনা যায় প্রায়ই। বাফুফে-বিসিবির মতো ফেডারেশনগুলোতে অনেকে বছরের পর বছর ধরে পদ আঁকড়ে রেখেছেন। এসব প্রথা ভাঙার আভাস দিয়েছেন নতুন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘স্পোর্টসকে রাজনীতি মুক্ত করার বিষয়ে আমাদের ভাবনা আছে। সেজন্য একটি সার্চ কমিটি করা হবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিসিবিসহ যে কোনো ফেডারেশনে যাতে একনায়কতন্ত্র চালু হতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্প্রতি বিসিবির সভাপতির পদ থেকে নাজমুল হাসান পাপনের পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে দেশের অনেক গণমাধ্যমে সংবাদ আসে। তবে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন আসিফ, 'বিসিবির ডিরেক্টর ও সভাপতির পদত্যাগের বিষয়টি আমি মিডিয়াতে দেখেছি। কিন্তু অফিসিয়ালি কোনো নিশ্চয়তা কিংবা বক্তব্য আমি পাইনি। আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, ক্রিকেট সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এই বিষয়ে ভালো সমাধানে পৌঁছানোর জন্য।’