১৯৯২ সালের ঘটনা। মারা যান ফৌজা সিংহের স্ত্রী। সে ধাক্কার রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দু বছর পর পঞ্চম পুত্র কুলদীপকেও হারান তিনি। দু বছরের ব্যবধানে স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক সইতে পারছিলেন না ফৌজা সিং। জীবনের নতুন অর্থ খুঁজতে ৮৯ বছর বয়সে দৌড়কে নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন। শুরু করেন ট্রেনিং।
সেই যে শুরু, ৯৩ বছর বয়সে ম্যারাথন দৌড় শেষ করে তাক লাগিয়ে দেন ফৌজা সিং। ১০০ বছর বয়সেও টরোন্টো ওয়াটারফ্রন্ট ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ম্যারাথন দৌড়বিদ হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
বয়সের বাধাকে অতিক্রম করে সব মিলিয়ে ৯ টি ম্যারাথনে অংশ নেওয়া এ কিংবদন্তি দৌড়বিদের জীবনের দৌড় থেমে গেছে এক গাড়ির ধাক্কায়।
গতকাল সোমবার দুপুরে জলন্ধর-পাঠানকোট মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফৌজা সিং। সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফৌজা। মৃত্যুর সময় কিংবদন্তি এ দৌড়বিদের বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর। সংবাদমাধ্যম বিবিসি পাঞ্জাবের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফৌজার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁর সন্তানেরা দেশের বাইরে আছেন। তাঁরা ভারতে ফিরলে ফৌজার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
ফৌজার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঞ্জাবের গভর্নর গুলাব চাঁদ কাটারিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সর্দার ফৌজা সিং জী-য়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। কিংবদন্তি এ ম্যারাথন দৌড়বিদ অদম্য মানসিক শক্তি ও আশার প্রতীক ছিলেন। ১১৪ বছর বয়সেও সাহস ও অঙ্গীকার দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন। ২০২৪ সালে ‘নেশামুক্ত রঙল পাঞ্জাব’ পদযাত্রায় আমি তাঁর সঙ্গে হাঁটার সুযোগ পেয়েছিলাম। সে সময় তাঁর উপস্থিতি আন্দোলনে অন্য মাত্রা দিয়েছিল।’
গুলাব চাঁদ আরও লিখেছেন, ‘নিজ গ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর খবরটি হৃদয়বিদারক। যারা নেশামুক্ত ও সুস্থ পাঞ্জাব গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তিনি। তাঁর পরিবার ও ভক্তদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। তাঁর আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।’
ফৌজা সিং ১৯১১ সালের ১ এপ্রিল পাঞ্জাবের জলন্ধরের বেয়াস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের প্রবীণরা ফৌজাকে নিয়ে বলেছেন, ‘ছোট বেলা থেকেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করত।’
২০০০ সালে প্রথমবার লন্ডন ম্যারাথনে অংশ নেন ফৌজা সিং। সে দৌড় শেষ করতে তাঁর সময় লেগেছিল ৬ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট। ১০০ বছর বয়সে টরন্টো ওয়টারফ্রন্ট ম্যারাথন শেষ করেছেন ৮ ঘণ্টা ১১ মিনিটে। তবে তাঁর জীবনের সেরা টাইমিং ছিল টরন্টোতেই (৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪ সেকেন্ড)।
২০০৪ এথেন্স অলিম্পিক ও ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের মশালবাহক ছিলেন ফৌজা সিং। এছাড়া কয়েকবছর আগে ডেভিড বেকহ্যাম ও মুহাম্মদ আলীর সঙ্গেও একটি জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন।