২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেও তিনটি জয়ী মারেকে ছুঁতে পারলেন না জোকোভিচ

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ আক্ষেপ দূর করে প্যারিস অলিম্পিকে ছেলেদের টেনিস এককে সোনা জিতেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা সার্বিয়ান কিংবদন্তির সেটাই ছিল প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণ। যা ‘জীবনের সেরা অর্জন’ বলে মনে করেন জোকোভিচ।

কিন্তু ক্যারিয়ারে পূর্ণতা পাওয়ার বছরে কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হলো না জোকোভিচের। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, উইম্বলডন, ফ্রেঞ্চ ওপেনে খালি হাতে ফেরার পর বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেনেও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ২৮তম বাছাই অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্সি পপিরিনের কাছে ৬-৪, ৬-৪, ২-৬ ও ৬-৪ গেমে হেরেছেন জোকোভিচ।

চলতি শতাব্দীতে অলিম্পিকে ছেলেদের এককে সোনা জেতার বছরে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি প্রথম গড়েছিলেন রাফায়েল নাদাল। ২২ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জেতার বছরই ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন জিতেছিলেন। পরের দুই অলিম্পিকে সোনা জেতা অ্যান্ডি মারে ২০১২ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে ইউএস ওপেন ও উইম্বলডনের স্বাদ পেয়েছিলেন। 

অথচ ২৫তম গ্র্যান্ড স্লামের অপেক্ষা বাড়িয়ে ক্যারিয়ারের ‘পূর্ণতা’ পাওয়ার বছরটা জোকোভিচ শেষ করলেন গ্র্যান্ড স্লামহীন। এ জন্য পপিরিনকেও কৃতিত্ব দিতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২৫ বছর বয়সী এ তারকা যেন তবে ‘দৈত্য’ বধের নেশাতেই মেতেছেন!

জোকোভিচকে হারানোর পর পপিরিনের বুনো উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

ইউএস ওপেনার মাত্র ১৩ দিন আগে মন্ট্রিয়াল মাস্টার্স জিতেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ২৫ বছর বয়সী টেনিস তারকা। সেটাও ষষ্ঠ বাছাই আন্দ্রে রুবলেভকে ৬-২, ৬-৪ সরাসরি গেমে হারিয়ে। ঘুচিয়েছিলেন এটিপিতে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ ২১ বছরের আক্ষেপ। র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ দিয়ে ৬২ থেকে ২৩ নম্বরে এসেছিলেন পপিরিন। সে সুখস্মৃতির রেশ কাটতে না কাটতে জোকোভিচকে হারিয়ে ‘অঘটনে’র জন্ম দিলেন।

র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় এটাকে অঘটনই বলা হচ্ছে। তবে এ হারে জোকোভিচের দায়ও কম নয়। ৩৭ বছর বয়সী এ টেনিস তারকা ১৪টি ডাবল ফল্ট করেছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে ৪৯টি ‘আনফোর্সড এরর’ করেছেন জোকোভিচ।

এতে ২০১৭ সালের পর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ছাড়াই বছর শেষ করতে হচ্ছে ইউএস ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ গ্র্যান্ড স্লামে গত ১৮ বছরে এত আগে কখনো বিদায় নেননি জোকোভিচ। তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর জোকোভিচও জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের জঘন্যতম টেনিস খেলেছেন তিনি।

অবশ্য ৬ফিট ৫ইঞ্চির পপিরিন তাঁর দীর্ঘদেহের পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথম দুটি সেট জিতে নেন ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে। তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-৬ গেমে জিতে ম্যাচটাকে চতুর্থ সেটে নিয়ে যান জোকোভিচ। কিন্তু সেখানে আর পেরে ওঠেননি, হেরে বসেন ৬-৪ ব্যবধানে।

এর আগে আরও দুই গ্র্যান্ড স্লামে জোকোভিচের মুখোমুখি হয়েছিলেন পপিরিন। অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হলেন ২৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ম্যাচ শেষে সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় তৃতীয় বারের দেখায় আমি ভাগ্যবান ছিলাম। আমরা অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডনে এর আগে মুখোমুখি হয়েছিলাম। সে ম্যাচগুলোতেও আমি সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। আজকের ম্যাচটা ছিল একদম ভিন্ন। আজ সুযোগ পাওয়া মাত্র সেগুলো কাজে লাগিয়েছি। আমি খুব ভালো টেনিস খেলেছি আজ।’

অন্যদিকে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে দিন কাটিয়েছেন জোকোভিচ। ম্যাচ শেষে সেটা নিজমুখে স্বীকারও করেছেন সার্বিয়ান গ্রেট, ‘আমার জন্য এটা ছিল একটা ভয়ংকর ম্যাচ। আমার জীবনের সবচেয়ে জঘন্যতম টেনিস খেলেছি আজ।’

তবে ভুলগুলোকে খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই দেখছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে এটা হতেই পারে। সত্যি বলতে, এ টুর্নামেন্টের শুরু থেকে আমি যেভাবে খেলছিলাম, তাতে তৃতীয় রাউন্ডকেই সাফল্য বলা যায়।’